
reporter
reporter
Author Archive


মেঘের রাজ্য আর শান্ত প্রকৃতির অনন্য আধার রাঙামাটির সাজেক। যে জনপদে পাহাড় আর আকাশের মিতালী দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন পর্যটকেরা, সেই অপরূপ ভূমি এখন অস্থিরতা ও উদ্বেগের কালো মেঘে আচ্ছন্ন। সৌন্দর্যের এই স্নিগ্ধ জনপদ আজ ক্ষমতা প্রদর্শন, আধিপত্য বিস্তার ও গোপন স্বার্থসিদ্ধির এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় মেঘ জমে, আবার ভেসেও যায়। কিন্তু সাজেকের আকাশ থেকে নিরাপত্তাহীনতার ঘোর কুয়াশা কাটছে না। দিনের পর দিন জমে থাকা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, ভূমির মালিকানার বিরোধকে পুঁজি করে চাঁদাবাজি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাত সাজেককে ঠেলে দিচ্ছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।


বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, বিএনপি পানি খায় ঠিকই, কিন্তু ঘোলা করে খায়। উক্তিটি যে প্রেক্ষাপটে, যেভাবেই বলা হয়ে থাকুক না কেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান চাবিকাঠি চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে এই কথার প্রায় নিখুঁত ও নগ্ন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতার বাইরে থাকতে যে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা সুর চড়িয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করেছিল, সার্বভৌমত্ব বিক্রির জিগির তুলেছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম হতেই সেই একই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তাদের আর কোনো দ্বিধা দেখা যাচ্ছে না।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। হাতে বই কিংবা খেলার ব্যাট থাকার বয়সে, মায়ের আইফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদ করায় তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে সেই ফোনও নিয়ে যায় হত্যায় জড়িতরা। পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অপ্রতিমের সঙ্গে তার চেয়ে বয়সে বড় কয়েকজন তরুণের যোগাযোগ ছিল এবং টিকটক ভিডিও বানানোর কথা বলেও তাকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের দমচাপা অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। দলটি কেবল মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, তাদের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের বাইরে বসে সরকারবিরোধী ও দেশবিরোধী নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু এই অপতৎপরতা রুখতে সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে এক ধরনের ধীরগতি ও উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদকে চিরতরে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে সরকারের এই ঢিলেঢালা ভাব জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


রাজনীতিতে পতনেরও একটি ভাষা আছে। কেউ ক্ষমতা হারান, কেউ দল হারান, কেউ জনসমর্থন হারান। আবার কেউ কেউ এতটাই সবকিছু হারান যে শেষ পর্যন্ত নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলতে হয় তৃতীয় কোনো দেশের মাটি থেকে। শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান অনেকটা তেমনই। একসময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে যার বিকল্প কল্পনা করাটাই ছিল প্রায় অপরাধের শামিল, আজ সেই শেখ হাসিনাকেই নিজের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব কে দেবেন, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে। একসময় যিনি বলতেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ নয়, আজ তার নিজের দেশে ফেরাই অনিশ্চিত। একসময় যিনি বিরোধীদের রাজনীতি করার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন, আজ তিনি নিজেই অন্য একটি দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।





ভারত শিবিরে পুরোনো আতঙ্ক!


পৌনে শতাব্দী আগে, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে যে দলটির জন্ম হয়েছিল, সাতাত্তর বছর পেরিয়ে আজ সেই আওয়ামী লীগ নিজের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার ও বিপর্যস্ত অধ্যায় অতিক্রম করছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন এবং ভারতে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দলটির টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সেই পতনের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, মাঠের রাজনীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তর পর্যন্ত দলটির গোটা চেইন অব কমান্ড তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।







আইনের দুর্বলতা-রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বাড়ছে নৃশংসতা




বাংলাদেশের আকাশটা আজ থমথমে। মেঘের আড়ালে যেন কোনো এক অশুভ ছায়া ঘাপটি মেরে আছে। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই বদ্বীপ যখন নতুন করে নিশ্বাস নিতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই সীমান্তের ওপারে শুরু হয়েছে এক গভীর কুটিল চাল। মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে সেই পুরোনো এবং অতি ব্যবহৃত ‘জঙ্গিবাদ’ নাটক। এই নাটকের চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে দিল্লির নর্থ ব্লকে, আর নির্দেশনায় রয়েছে ভারতের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। লক্ষ্য এবার অত্যন্ত পরিষ্কার ও সুদূরপ্রসারী _বাংলাদেশের গর্বিত বিমানবাহিনীকে পঙ্গু করে সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানা। তাছাড়া বাংলাদেশে আবারও একটি পুতুল সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকেও টার্গেট করেছে এই চক্র।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এবার যেন বারুদের গন্ধ। দ্বিতীয় দফার ভোট মিটেছে। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই মানুষের ঢল। ভোট পড়ার হার চমকে দেওয়ার মতো। কিন্তু এই ভোটের আমেজ যতটা না উৎসবের, তার চেয়ে বেশি যেন এক যুদ্ধের সংকেত। তৃণমূল আর বিজেপি—কেউ কাউকে এক চুল জমি ছাড়তে রাজি নয়। মাঠের লড়াই এখন ছড়িয়ে পড়েছে পাড়া-মহল্লায়। বিজেপি এবার বাংলা দখলের জন্য তাদের সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ওদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা নিয়ে তৃণমূল বারবার অভিযোগ তুলছে।

উত্তরের হাওয়ায় এখন বিচিত্র সব গন্ধ। রাজনীতির ময়দানে যারা দীর্ঘকাল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চলেছে, তাদের ভেতরে কি তবে ফাটল ধরল? নাকি এই ফাটল স্রেফ কথার কথা? বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জামায়াতকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে এখন সরগরম চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অন্দরমহল। তিনি বলেছেন, জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলের চেষ্টা করা উচিত। এই একটি বাক্যই যেন অনেক হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিয়েছে।

গ্রামের মেঠোপথ থেকে শহরের রাজপথ সবখানেই এখন এক অস্থির সময়ের প্রতিধ্বনি। নেপালের পাহাড়ি খাঁজে যে তারুণ্যের জয়গান শোনা যাচ্ছে, আমাদের এই ভাটি অঞ্চলের সমতলে কেন সেই সুরটা ম্রিয়মাণ?

আগস্টের সেই বিকেলটা ছিল অন্যরকম। একদিকে বাতাসে বারুদের গন্ধ। অন্যদিকে, মানুষের গলায় বিজয়ের স্লোগান। দীর্ঘ লড়াই আর ত্যাগের পর স্বৈরাচারী হাসিনা শাসনের অবসান হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে চর্তুদিকে। ঢাকার উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডে তখন বাঁধভাঙা মানুষের মিছিল।