পশ্চিমবঙ্গের ভোটযুদ্ধ: সীমান্তে অস্থিরতার মেঘ ও বাংলাদেশের শঙ্কা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এবার যেন বারুদের গন্ধ। দ্বিতীয় দফার ভোট মিটেছে। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই মানুষের ঢল। ভোট পড়ার হার চমকে দেওয়ার মতো। কিন্তু এই ভোটের আমেজ যতটা না উৎসবের, তার চেয়ে বেশি যেন এক যুদ্ধের সংকেত। তৃণমূল আর বিজেপি—কেউ কাউকে এক চুল জমি ছাড়তে রাজি নয়। মাঠের লড়াই এখন ছড়িয়ে পড়েছে পাড়া-মহল্লায়। বিজেপি এবার বাংলা দখলের জন্য তাদের সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ওদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা নিয়ে তৃণমূল বারবার অভিযোগ তুলছে। সাধারণ ভোটারদের মনে ভয় আর সংশয়—দুই-ই জেঁকে বসেছে। বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের নিয়ে চলছে এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক খেলা। তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে চলছে নানা নাটক। একদিকে মেরুকরণের চেষ্টা, অন্যদিকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই ভোট শুধু কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং দখলের লড়াই নয়। এই লড়াইয়ের আঁচ এসে লাগছে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও।
পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। গত কয়েক বছরে আসামের দিকে তাকালে এক ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন, তা কোনোভাবেই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীসুলভ নয়। তিনি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বারবার বাংলাদেশকে আক্রমণ করেছেন। এনআরসি আর সিএএ নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মূল লক্ষ্যই যেন বাংলাদেশ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তবে সেই একই সুর এখানেও শোনা যাবে। বিজেপি নেতারা নির্বাচনী জনসভায় বারবার ‘অনুপ্রবেশকারী’ আর ‘উইপোকা’র মতো শব্দ ব্যবহার করছেন। তারা বলছেন, ক্ষমতায় এলে সীমান্তের ওপার থেকে আসা মানুষদের চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে। এতে করে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়বে। বিএসএফের তৎপরতা আরও কঠোর হতে পারে। এর ফলে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিএসএফের হাতে সাধারণ মানুষের মৃত্যু বা হয়রানি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
তৃণমূল ক্ষমতায় থাকা মানে অন্তত এক ধরনের স্থিতাবস্থা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই বাংলাদেশের প্রতি এক ধরনের নমনীয় ভাব দেখিয়েছেন। তবে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তিতে তার অনড় অবস্থান আবার বাংলাদেশের স্বার্থের বিপরীতে গেছে। কিন্তু বিজেপির আগ্রাসী হিন্দুত্ববাদের তুলনায় তৃণমূল অনেক বেশি সহনশীল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সবসময়ই নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখেছে। বিজেপি যদি দিল্লি আর কলকাতা—দুই জায়গাতেই ক্ষমতায় থাকে, তবে তারা হয়তো এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে যা সরাসরি বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি করবে। এছাড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে বিজেপির কঠোর অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। দুই দেশের মধ্যে যে সামান্যতম সীমান্ত বাণিজ্য চলে, তা অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কলকাতার প্রভাবশালী গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকাতেও উঠে এসেছে কীভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ পশ্চিমবঙ্গের সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করে ফেলেছে। বিজেপি এবার যে ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তার আড়ালে রয়েছে এক কঠোর সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা। এই এজেন্ডা কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের শান্তি বিঘ্নিত হবে। দাঙ্গা বা সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরি হলে তার আঁচ সরাসরি বাংলাদেশে পড়বে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। এতে করে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। বিবিসি বাংলার এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজেপির এই উগ্র জাতীয়তাবাদ মূলত একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চালিত। তারা বারবার বাংলাদেশকে জড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি গরম করছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ বাড়ছে। এই বিভেদ শুধু রাজনীতির ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই, তা ঢুকে পড়েছে মানুষের মনে।
বিজেপি যদি শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে পারে, তবে বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর ওপর চাপ বাড়বে। তারা অনুপ্রবেশের অভিযোগে অনেক মানুষকে পুশ-ব্যাক করার চেষ্টা করতে পারে। এতে করে একটি মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর যদি ভারত থেকে মুসলিমদের তাড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তবে তা বাংলাদেশের জন্য হবে এক বিশাল বোঝা। বিজেপি নেতারা খোলাখুলিভাবে বলছেন যে তারা পশ্চিমবঙ্গের জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে দিতে চান। এর অর্থ হলো, তারা একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে চান। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে তারা বাংলাদেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে। তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করবে যে বাংলাদেশ থেকেই মানুষ অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছে। অথচ তথ্য-প্রমাণ বলছে, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই ভারতের তুলনায় ভালো। মানুষ কাজের সন্ধানে ওদিকে যাচ্ছে না, বরং ভারতের ভেতরেই মানুষের কর্মসংস্থান কমছে।
সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের চোখে আজ সেই ভয়টা স্পষ্ট। কাঁটাতারের ওপারে কী হচ্ছে, তা নিয়ে এপার বাংলা উদ্বিগ্ন। তৃণমূলের পরাজয় মানেই হলো বাংলাদেশের এক বন্ধুপ্রতিম শক্তির বিদায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তত দিল্লির সরাসরি খবরদারি সহ্য করেন না। তিনি অনেক সময় কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসা মানে হলো দিল্লির সরাসরি নিয়ন্ত্রণ। তখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণ হবে নাগপুরের আরএসএস সদর দপ্তর থেকে। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক রাজনীতির জন্য বড় হুমকি। বিজেপি নেতারা যেভাবে বাংলাদেশ নিয়ে উস্কানিমূলক কথা বলেন, তাতে পরিষ্কার যে তারা প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশকে কোনো সম্মান দিতে রাজি নয়। তারা চায় দাদাগিরি করতে।
নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা গেছে, বিজেপি কর্মীরা জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে এলাকায় এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর বিপরীতে তৃণমূল চেষ্টা করছে ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগান দিয়ে বাঙালিয়ানা রক্ষা করতে। এই বাঙালিয়ানার একটি দিক হলো দুই বাংলার এক সংস্কৃতি আর মেলবন্ধন। বিজেপি এই মেলবন্ধন পছন্দ করে না। তারা চায় বাংলাকে তার সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত করে এক নতুন রূপ দিতে। এই নতুন রূপটি হবে উগ্র এবং সাম্প্রদায়িক। যদি তারা সফল হয়, তবে দুই বাংলার মধ্যে যে নাড়ির টান অবশিষ্ট আছে, তা ছিন্ন হবে। সাংস্কৃতিক বিনিময় বন্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্য এটি একটি বড় আঘাত। দুই দেশের মানুষের যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়বে। ভিসার কড়াকড়ি বাড়বে। চিকিৎসার জন্য বা ভ্রমণে যারা ওপার বাংলায় যান, তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গের এই লড়াইয়ে বিজেপি যদি হারে, তবে তা হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্র সাম্প্রদায়িকতার এক বড় পরাজয়। বাংলাদেশের টিকে থাকা আর উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। বিজেপি ক্ষমতায় আসা মানেই অস্থিরতা চিরস্থায়ী হওয়া। আসামের কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। সেখানে এনআরসি করার পর হাজার হাজার মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। তাদের গায়ে ‘বিদেশি’ তকমা সেঁটে দেওয়া হয়েছে। এই একই মডেল তারা পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োগ করতে চায়। তারা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। বলা বাহুল্য, এই দাবি মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই সংখ্যাতত্ত্ব সাজিয়েছে।
তৃণমূলের অভ্যন্তরেও অনেক সমস্যা আছে। দুর্নীতি আর কাটমানি নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আছে। এই ক্ষোভকে বিজেপি সুকৌশলে কাজে লাগিয়েছে। তারা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে পরিবর্তনের জন্য বিজেপিই একমাত্র বিকল্প। কিন্তু সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না, এই পরিবর্তন আসলে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকলকারখানা আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন যা বাকি আছে, তা হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। বিজেপি এই সম্প্রীতিকেই টার্গেট করেছে। তারা চায় হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করে ভোটব্যাংকের রাজনীতি করতে। এই নোংরা রাজনীতি বাংলাদেশের সীমান্তে উত্তাপ ছড়াবে। বিএসএফের গুলিতে নিরীহ মানুষের মৃত্যু আরও বাড়বে। তারা সীমান্তে এমন এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করবে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বাংলাদেশ নিয়ে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন, তাতে পরিষ্কার যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলাদেশকে কখনোই আস্থায় নিতে চায়নি। তারা শুধু নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে চায়। তিস্তা চুক্তির কথা তারা বারবার ভুলে যায়। গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে তারা টালবাহানা করে। অথচ শেখ হাসিনার কাছ থেকে তারা ট্রানজিট আর ট্রানশিপমেন্টের সব সুবিধা আদায় করে নিয়েছিল। এই অসম সম্পর্কের দায় দিল্লির বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এলে এই বৈষম্য আরও বাড়বে। তারা বাংলাদেশকে একটি অনুগত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ তা কখনোই মেনে নেবে না।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিও খুব একটা সুখকর হবে বলে মনে হয় না। যদি বিজেপি ক্ষমতায় না-ও আসে, তারা কিন্তু এক বিশাল ভোটব্যাংক তৈরি করে ফেলবে। এতে করে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক বুনট আজীবনের জন্য নষ্ট হয়ে যাবে। বিজেপি বিরোধী দল হিসেবেও খুব উগ্র থাকবে। তারা প্রতিটি পদক্ষেপে বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান নেবে। যেকোনো সমস্যায় তারা বাংলাদেশের দিকে আঙুল তুলবে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তৃণমূলের জন্যও কঠিন হবে। ওদিকে বাংলাদেশেও ভারতের এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে। ভারতের প্রতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের যেটুকু আস্থা অবশিষ্ট আছে, বিজেপি জিতলে তাও হারিয়ে যাবে। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি করবে।
পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উচিত সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সিদ্ধান্ত নেওয়া। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সীমান্তের বিজিবি সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। কোনোভাবেই যেন অস্থিরতা এপারে ছড়িয়ে না পড়ে। কিন্তু রাজনীতির ঢেউ আটকানো কঠিন। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে যে মারপিট আর সংঘর্ষ হচ্ছে, তা প্রমাণ করে ক্ষমতা দখলের লড়াই কত নিচে নামতে পারে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর মদদে বিজেপি ক্যাডাররা অনেক জায়গায় সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। তারা চাইছে গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করতে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই জবরদস্তি কখনোই শুভ ফল আনে না।
শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে উগ্রবাদী আদর্শ আর রাজনীতি যখন মিশে যায়, তখন সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়। তৃণমূলকে অনেক বাধা অতিক্রম করে এগোতে হচ্ছে। মমতার একা লড়াই অনেক সময় অসম্ভব মনে হলেও তিনি লড়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের মানুষের সহানুভূতি তার দিকেই। কারণ তিনি অন্তত বাঙালির অস্তিত্বের কথা বলেন। তিনি অন্তত দিল্লির সাম্প্রদায়িক শাসনের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান। এই নির্বাচনে মমতার জয় মানে হলো বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তি। আর বিজেপির জয় মানে হলো আগামী দীর্ঘ সময়ের জন্য এক অনিশ্চিত আর বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়া।
পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য এখন ব্যালট বক্সে বন্দি। পুরো উপমহাদেশ এখন তাকিয়ে আছে এক অনিশ্চিত ভোরের অপেক্ষায়। এই যুদ্ধে কে জিতবে, তা সময়ের হাতে। তবে বাংলাদেশের স্বার্থে একটি প্রগতিশীল আর অসাম্প্রদায়িক পশ্চিমবঙ্গের বিকল্প নেই। বিজেপির যে বিষাক্ত নিঃশ্বাস এখন সীমান্তজুড়ে বইছে, তা যেন কোনোভাবেই বাংলার সবুজ প্রান্তরে আগুন না লাগায়—এই কামনাই আজ প্রতিটি বাঙালির। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন তাই শুধু একটি ভোট নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্ব আর সম্পর্কের এক অগ্নিপরীক্ষা। এই পরীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ পাস করবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই লড়াইয়ের ছাপ ইতিহাসের পাতায় এক গভীর ক্ষত হয়ে থেকে যাবে।







