বিশেষ প্রতিবেদক : ২০২৬ সালের অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হঠাৎ এক বার্তা ছড়িয়ে পড়ল খবর মাধ্যমে। পবিত্র মক্কা নগরীর এক মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নিহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ইউনিয়নের তরুণ নজরুল ইসলাম ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মেয়ে সুইটি আক্তার (সিটি আক্তার)।

দেশে যখন খবরের তোলপাড়, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা। তিন বছর তিন মাস ছেলের মুখ দেখতে পাননি নজরুল ইসলামের বৃদ্ধ বাবা-মা। গত ১১ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঠিক তিন দিন আগে শেষবারের মতো ফোন করেছিলেন নজরুল। মা রহিমা বেগমকে বলেছিলেন, ‘মা, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার জন্য দোয়া কইরো।’ মা বুঝতে পারেননি, ওটাই ছিল শেষ কথা। অন্যদিকে সুইটির বৃদ্ধা মা ঘরের কোণে বসে শুধু বিলাপ করছেন, ‘ও বাবা, তোমরা আমার পেটের পোলার নাগান। মা হইয়া আমি চাইতেছি, আমার মাইয়ারে আইনা দাও, আমার আত্মাটার শান্তি করো।’

কিন্তু এই আহাজারি কি পৌঁছাচ্ছে রিয়াদ বা ঢাকার নীতি নির্ধারকদের কানে? নাকি রেমিট্যান্সের চাকা সচল রাখার ভিড়ে দুই দাসের রক্তের হিসাব চাপা পড়ে যাচ্ছে কাগুজে চালানে?

সৌদি আরবের মরুভূমির বালুতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া লাখ লাখ মানুষের ঘাম মিশে তৈরি হয় দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ। অথচ সেই প্রবাসীদের চরমতম বিপদে রাষ্ট্র যেন বারবার অন্ধ আর বধির হয়ে থাকে। দুই বাংলাদেশির রক্তে ফের উন্মোচিত হলো এক অমানবিক ও করুণ সত্যি—সৌদি আরবের আইনের নির্মমতা, দূতাবাসের চরম গাফিলতি এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবাসীদের অধিকারের করুণ শূন্যতা।

সৌদি আইনের নির্মম বাস্তবতা ও রাজতন্ত্রের খেয়ালখুশি

সৌদি আরবে ঠিক কীভাবে দণ্ড ঠিক হয়? কোন আইনে বিচারে যায় মানুষের মাথা? সেখানে তো একটা বাঁধাধরা পূর্ণাঙ্গ দণ্ডবিধি নেই। আইনের পুরো রাস বিচারকের নিজস্ব ব্যাখ্যা আর খেয়ালখুশির ওপর ছেড়ে দেওয়া।

ইসলামি আইনে অপরাধ মূলত তিন ভাগের: হদ, কিসাস ও তাজির। হদ ও কিসাসে নির্দিষ্ট বিধান থাকলে তাজিরের ক্ষেত্রে বিচারকের ক্ষমতা প্রায় অসীম। জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তার নাম দিয়ে যেকোনো অপরাধকে তাজিরের অধীনে ফেলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব। ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়া নজরুল ও সুইটির ক্ষেত্রেও ঘটানো হয়েছে এই তাজিরের প্রয়োগ।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে মক্কার এক মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ ও তথাকথিত ‘জেনা’র অভিযোগ ছিল। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় সাইবার অপরাধের মামলা। এই অস্পষ্ট অভিযোগগুলোর ওপর ভিত্তি করেই আদালত তাজিরের অধীনে তাদের সর্বোচ্চ সাজা শোনায়।

অথচ বিশ্বকে অন্য কথা শুনিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ২০১৮ সাল থেকে একের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, হত্যা মামলা বা কোরআনে নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে তাজিরের আওতায় মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করা হয়েছে। বাস্তবে ঠিক তার উল্টো।

চোখ ছানাবড়া করা পরিসংখ্যান

এক দশকে লাফিয়ে বেড়েছে অঙ্ক: ২০১৪ সালে সৌদি আরবে মোট ৯০ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪৫-এ। আর ২০২৫ সালে সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ সালমানের আমলে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।

বিবেচনামূলক সাজা: ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইএসওএইচআর। এর মধ্যে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ (৮৪টি) মৃত্যুই দেওয়া হয়েছে বিচারকের একক ক্ষমতা বা তাজিরের আওতায়। আর ১০৮টি মৃত্যুর ৮৩টির সঙ্গেই কোনো হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক ছিল না।

প্রবাসীদের ওপর খড়্গ: দেশটির ৩ কোটি ৫৩ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রবাসী প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ (৪৪.৪%)। অথচ ২০২৪ সালে মাদক মামলায় দণ্ডিত ১২২ জনের মধ্যে ৯২ জনই (৭৫.৪%) ছিলেন বিদেশি। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কার্যকর ৫৯টি মৃত্যুদণ্ডের শতভাগ শিকারই প্রবাসী।

সৌদি বিচারব্যবস্থায় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো প্রবাসীদের কাছে আইন এক রহস্যময় ফাঁদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় জবরদস্তিমূলক নির্যাতনের মাধ্যমে। নির্জন কারাবাস, চোখ বেঁধে মারধর, বৈদ্যুতিক শক আর পরিবারের সবাইকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সই নেওয়া কাগজে সাজানো হয় রায়।

আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনৈতিক দেউলিয়াত্ব

আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্র সম্পর্কের একেবারে মৌলিক নীতি হলো ১৯৬৩ সালের ‘ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার রিলেশনস’ (ভিসিসিআর)। এর ৩৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে: কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার বা আটক হলে বা তার বিচার শুরু হলে, স্বাগতিক দেশ অবিলম্বে আটক ব্যক্তির কনস্যুলেটকে তা জানাতে বাধ্য।

কিন্তু সৌদি আরব কি সেই তোয়াক্কা করেছে? উত্তর হলো - না।

নজরুল ও সুইটিকে ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দীর্ঘ তিন বছর তারা জেদ্দার কারাগারে বন্দি ছিলেন। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিচার বা দণ্ডের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। আন্তর্জাতিক আইনের এই লঙ্ঘন সৌদি আরবের জন্য নতুন নয়, কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়।

আন্তর্জাতিক আইনি বিধি ভঙ্গ করে গোপনে বিচার চালানো ও রায় কার্যকর করা কি একটা রাষ্ট্র মেনে নিতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতিকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখানো। কিন্তু সৌদি আরবের কাছে হয়তো দরিদ্র দেশের সস্তা শ্রমিকের জীবনের দাম এমনই।

কনস্যুলেটের চরম অবহেলা ও ঢাকার প্রতিক্রিয়া

সৌদি সরকারের অন্যায় আচরণ যদি এক পিঠ হয়, তবে বাংলাদেশ মিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অন্য পিঠ। যা শুধুই দায়সারা আর হতাশাজনক।

তথ্য বলছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই সপ্তাহ আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সৌদি কর্তৃপক্ষ জেদ্দা কনস্যুলেটে আড়াই হাজার বন্দির একটি তালিকা পাঠায়। ওই তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম, পাসপোর্ট ও অপরাধ হিসেবে ‘সাইবার ক্রাইম’ ও ‘জেনা’ স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। অথচ জেদ্দা কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা সেই তালিকার ফাইল চেপে বসে রইলেন!

তারা দাবি করলেন, অপরাধের কথা লেখা থাকলেও ‘মৃত্যুদণ্ড’ লেখা ছিল না, তাই তারা বুঝতে পারেননি। কূটনৈতিক অঙ্গনে যুক্ত যে কেউ জানেন, ইসলামি আইন চালিত সৌদিতে ‘জেনা’ বা ব্যভিচারের অভিযোগে তাজিরের অধীনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস থেকে শুরু করে আইনি বিশেষজ্ঞরা কনস্যুলেটের আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা পরিষ্কার বলছেন, তালিকা পাওয়া মাত্রই কনস্যুলেটের দৌড়াদৌড়ি শুরু করা উচিত ছিল। আইনজীবী দেওয়া তো দূরের কথা, জেদ্দার বিশাল মিশনের কোনো কর্মকর্তা তিন বছরে একবার কারাগারে গিয়ে মানুষগুলোর খোঁজ নেননি।

ঢাকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দায়সারা বক্তব্য

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বললেন, ‘সামাজিক যোগাযোগের তথ্যে কান না দিয়ে সৌদি সরকারের অনুলিপি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরুন।’ আরেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে বললেন, ‘তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি হয়েছে, আমরা ব্যাখ্যা চেয়েছি।’

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে যখন হিসাব নেওয়া হলো, তখন স্পষ্ট হলো সরকারের দুর্বলতা। তারা স্বীকার করলেন, তালিকায় নাম ছিল কিন্তু কর্মকর্তারা আইডেন্টিফাই করতে পারেননি।

কিন্তু এই স্বীকারোক্তিতে কি দুই প্রবাসীর প্রাণ ফিরবে? নাকি দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? না, কোনো ডিপ্লোম্যাট বা লেবার কাউন্সিলরকে প্রত্যাহার করা হয়নি, কৈফিয়তও চাওয়া হয়নি। উল্টো সরকারের মনোভাব এমন যেন ‘সৌদির আইন আমাদের মেনে নিতেই হবে’। এই চরম কূটনৈতিক দুর্বলতা ও নিজ দেশের মানুষের প্রতি উদাসীনতা অপরাধের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্যান্য দেশের তুলনা

মানবাধিকার সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার যদি নাগরিকদের নিরাপত্তায় শক্ত জবাব না দেয়, তবে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো ভাববে বাংলাদেশি কর্মীদের সাথে যা খুশি তা-ই করা যায়।

আমরা কি অন্য দেশের দিকে তাকাতে পারি না?

২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিককে মহানবীকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। খবর জানাজানি হতেই শ্রীলঙ্কার পুরো জনগণ ফুঁসে ওঠে। কলম্বো সরকার সৌদি আরবের ওপর তীব্র কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। ফল কী হলো? ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেই শ্রীলঙ্কানের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করতে বাধ্য হয় সৌদি সরকার!

এমনকি ইন্দোনেশিয়াও ২০১৮ সালে নিজ দেশের নাগরিককে গোপনে ফাঁসি দেওয়ায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

অথচ বাংলাদেশ? বাংলাদেশ সরকার চিঠি পাঠাতে পাঠাতেই জীবন শেষ। এমনকি মৃত্যুদণ্ডের পর লাশ দুটি অন্তত দেশে আনা যাবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। অতীতে ২০১১ সালে আটজন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাদের মরদেহ পরিবারকে দেওয়া হয়নি। মরুভূমির কোনো অজানা বালুচরে লাশ দাফন করে দেওয়া হয়। স্বজনদের কাছে সেই শোকের স্মৃতিচিহ্নটুকুও পৌঁছায় না।

প্রবাসীদের আতঙ্ক ও কর্মসংস্থানের শঙ্কা

সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী অবস্থান করছেন। তারা প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের রিজার্ভ বাঁচিয়ে রাখেন। আজ সেই প্রবাসীদের মনের অবস্থা কী?

জেদ্দা ও রিয়াদের রাজপথে, আকামার কাজের জায়গায় বা মেসে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক। তাদের মনে হচ্ছে, তারা এমন এক দেশে আছেন যেখানে সামান্য অভিযোগে বা ষাট শতাংশ ভুল বোঝার কারণে যে কাউকে ধরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া যায়, আর তাদের নিজের দেশের সরকার কোনো সাহায্যই করতে পারবে না।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, প্রবাসী শ্রমিকরা নিজেদের আইনগতভাবে অরক্ষিত ভাবছেন। শ্রমিকদের জীবন সস্তা হয়ে ওঠায় নিয়োগকর্তারা আরও বেশি শোষণ ও নিপীড়ন চালাবে।

সংসদীয় কমিটির তথ্যমতে, সৌদিতে থাকা ১ লাখ ৬৯ হাজার নারী শ্রমিকের মধ্যে অন্তত ১ থেকে ২ শতাংশ (প্রায় দেড় থেকে তিন হাজার) চরম নির্যাতনের শিকার হন। গত কিছু দিনে ১,৩৬৪ জন নারীকে উদ্ধার করে দেশে আনতে হয়েছে। এদের আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।

একজন প্রবাসীর পাঠানো উপার্জনে দেশে ব্যাংক-রিজার্ভের হিসাব মেলায় সরকার। আর প্রবাসে সেই মানুষটির গলার ওপর যখন তরবারি নেমে আসে, তখন দেশ ব্যস্ত থাকে ‘নোট ভার্বাল’ আর ‘তথ্যাভাবের’ দাপ্তরিক ছক মেলাতে।

নজরুলের মা বা সুইটির বোন আজ কোনো বড় কথা বোঝেন না। তারা কেবল চান স্বজনের লাশটা, যেন অন্তত দেশের মাটিতে একটু জায়গা দেওয়া যায়। কিন্তু মরুভূমির বাতাসে ভেসে আসা উদাসীনতা সংকেত দিচ্ছে - সৌদি আরবের বিশাল দণ্ডবিধির পেছনে ঢাকা পড়ে গেছে একজোড়া চোখ, আর আমাদের পররাষ্ট্র নীতির আড়ালে হারিয়ে গেছে স্বদেশের প্রতি প্রবাসীদের শেষ বিশ্বাসটুকু।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এখনই রাষ্ট্র জেগে না ওঠে, তবে রেমিট্যান্সের এই রক্তভেজা টাকা দিয়ে আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন তো আনব, কিন্তু মানুষ হিসেবে নিজেদের মর্যাদা শেষ করে ফেলব।