ডাকসু ভিপি জনাব সাদিক কায়েম যেভাবে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির এক ‘কাল্ট ফিগার’ হয়ে উঠেছেন, তা উপমহাদেশের ইতিহাসেই একটি বিরল দৃষ্টান্ত। তিনিই সম্ভবত প্রথম কোনো ডাকসু ভিপি, যিনি একটি কোর ইসলামী ছাত্রসংগঠন থেকে জয়ী হয়ে আসার রেকর্ড গড়েছেন। ডাকসুর প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে এমনটি দ্বিতীয়বার ঘটেছে বলে মনে হয় না। এক বছরের মেয়াদকালেই তাঁকে দুটি ভিন্ন মতাদর্শের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ আদায় করার সক্ষমতা প্রদর্শন করতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি নিঃসন্দেহে সফল। সাদিক কায়েমের সবচেয়ে বড় অনন্যতা হলো, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর সম্ভাব্য ‘রাজকীয়’ উত্তরণ। অতীতেও অনেক জনপ্রিয় ছাত্রনেতার আবির্ভাব হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ জাতীয় রাজনীতিতে গিয়েও নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছেন। অনেকেই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক থেকেছেন—যা নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সাদিক কায়েমের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজনীতিতে যে ধরনের শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ উত্তরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এমন সুযোগ খুব অল্পসংখ্যক মানুষের ভাগ্যেই আসে। জীবনের এমন সমীকরণের খোলনলচে সচরাচর মানুষের হাতে থাকে না। এটি যেন সপ্তম আসমানের ওপর থেকে নির্ধারিত। আপনি বসে বসে পরিকল্পনা করে কিংবা কেবল পরিশ্রমের জোরে জীবনের এমন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবেন না। এটি এমন এক স্ক্রিপ্ট, যার লেখক স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন, যাকে ইচ্ছা অপদস্ত করেন; কাউকে কাউকে বেহিসেব রিজিক দান করেন। খোদ সাদিক কায়েমও হয়তো কল্পনা করেননি যে, তাঁর জীবনে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এতগুলো চমক অপেক্ষা করছে। তবে স্মর্তব্য বিষয় হলো—জাতীয় রাজনীতি ছাত্ররাজনীতির তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। ডাকসুতে যে ধরনের চাপ সামলাতে হয়েছে, সিটি কর্পোরেশন বা জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল ও চাপপূর্ণ। ক্ষমতা এবং জনপ্রিয়তা সবসময়ই পিচ্ছিল পথ। সারাজীবন ধরে তা ধরে রাখা, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেকে উপস্থাপন করা—কোনোটিই সহজ কাজ নয়। আর জীবনের শুরুতেই যাকে পিরামিডের শীর্ষে পৌঁছে দেওয়া হয়, তার জন্য সেখানে টিকে থাকার চাপও বহুগুণে বেড়ে যায়। সাদিক কায়েমকে আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ হিসেবে পেয়েছি। রাজনীতিতে তাঁর মতো একটি ‘কাল্ট ফিগার’-এর টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। #লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।