সংসদে ক্ষমতাসীন দল গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ বেশ কিছু অধ্যাদেশ ল্যাপস করেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে ব্যাপকভাবে। খোদ ট্রেজারি বেঞ্চের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওসাদ জমির এ বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে লিখিত মতামতে বলেছেন, “এ আইনগুলো বাদ দেওয়া হলে তা মানবাধিকার প্রশ্নের বিএনপি সরকারের পশ্চাত মুখী যাত্রা হিসেবে বিবেচিত হবে।” সংসদে তুমুল বিতর্ক চলাকালে এ নিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা শক্ত বিরোধীতা করেছেন। জননিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ফের স্বেরাচারী ব্যবস্থার ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত বলে তারা সরকারকে সাবধান করেছিলেন। কিন্তু সরকার ঠিক উল্টো পথে হেঁটেছে। তারা চেয়েছে নানাভাবে নাগরিকদের ওপর বল প্রয়োগের রাস্তা খোলা রাখতে। ওই দিনই পুলিশি হয়রানির একটি পর্ব বাস্তবায়ন হলো ভোলায়। ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর নারী শাখার কর্মী সাওদা সুমির ফেসবুক পোষ্টে জ্বালানি সংকট ও নানা অব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশ্ন তোলাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমালোচনা হিসেবে আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাস পার হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে সওদা সুমিকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলো। প্রশ্ন উঠেছে, জামায়াতের নারী কর্মীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়েই কি বিরোধী দল দমনের খেলা শুরু করলো বিএনপি? এ নিয়ে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে এরই মধ্যে, বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এক ফেসবুক পোষ্টে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “জামায়াত কর্মী সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ করা হয়েছে, তা নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা দিচ্ছে। ফ্যাসিবাদীরা সকল যুগেই নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নির্লজ্জ ও নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। পরিণতিতে তাদের কণ্ঠই স্তব্ধ হয়ে যায়। জানি না, অন্তরে যারা ফ্যাসিবাদ লালন করে, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কি না। লজ্জা, লজ্জা!“ এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াত কর্মী সাওদার স্বামী সার্জেন্ট (অব:) আব্দুল হালিম রাষ্ট্রকে মানবিক হওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। তিনি স্ত্রীকে কারাগারে রেখে যে মানবেতর অবস্থায় কাটছে তার জীবন তা তুলে ধরেছে। তিনি লিখেছেন, সাওদা সুমি আমার স্ত্রী। সে একজন নারী উদ্যোক্তা, সে ফ্রিল্যান্সার, সে শ্রেষ্ঠ জয়িতা পুরস্কার প্রাপ্তা নারী, সে অধিকার সচেতন একজন নারী। তার গঠনমূলক সমালোচনাকে আমি কখনো কখনো সহ্য করতাম না । আমারই মত রাষ্ট্রও তার গঠনমূলক সমালোচনাকে সহ্য করতে পারতেছেনা। তার মুখ বন্ধ করে রাখার জন্য রাষ্ট্র ,তার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করেছে। তারপরেও বলবো রাষ্ট্র তুমি মানবিক হও...। এখন বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন, ভুক্তভোগীর এই আকুতিকি শুনবে, নির্বাসন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন বাংলাদেশ? নাকি ফের ফিরে যাবে পুরনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায়।