চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে এবং এসব ঘটনায় ৪৪ জন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির প্রকাশিত তালিকায় নরসিংদীর ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তী ও যশোরের বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু দুটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পরবর্তী সময়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হত্যার বদলে ব্যবসায়িক বিরোধ এবং নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
মণি চক্রবর্তীকে গত ৫ জানুয়ারি রাতে নরসিংদীর পলাশে নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়। পরে তাঁর পরিবার সন্দেহ প্রকাশ করে ব্যবসায়িক অংশীদার রাজেন্দ্র চৌহান রাজুর ওপর। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজেন্দ্র ও সাগর চৌহানকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের তদন্তে ব্যবসায়িক লেনদেন ও অংশীদারত্বের বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।
অন্যদিকে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গত ৫ জানুয়ারি যশোরের মণিরামপুরে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন তাঁর পরিবার বলেছিল, কোনো স্বার্থগত কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরে ডিবি পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে এবং পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ দুটি চরমপন্থী সংগঠনের বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো হত্যাকাণ্ডকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ভিত্তি কী?
তদন্তের আগেই ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা
ঐক্য পরিষদের ২৭ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪০টি ঘটনায় ৪৪ জন নিহত, নারী নির্যাতন বা ধর্ষণের পাঁচটি ঘটনা, হামলা ও হত্যার হুমকির ৪২টি ঘটনা, উপাসনালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ৬২টি ঘটনা, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ৪৭টি ঘটনা এবং জমি দখল বা দখলের চেষ্টার ১৫টি ঘটনা রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
কিন্তু তালিকায় কোনো হত্যাকাণ্ড ঢোকার ক্ষেত্রে হত্যার উদ্দেশ্য, মামলার তদন্তের অগ্রগতি, পুলিশি অনুসন্ধান বা ধর্মীয় পরিচয়কে হত্যার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, একজন ব্যক্তি হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান হওয়ার কারণে নিহত হওয়া এবং ওই ব্যক্তি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় নিহত হওয়া—দুটি এক বিষয় নয়।
কোনো অপরাধের শিকার ব্যক্তি সংখ্যালঘু হলেই সেটিকে সাম্প্রদায়িক অপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করতে হলে অন্তত অপরাধের উদ্দেশ্য বা প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় বিদ্বেষ কিংবা সম্প্রদায়গত পরিচয়ের ভূমিকা খুঁজে দেখা প্রয়োজন। মণি চক্রবর্তী ও রানা প্রতাপ বৈরাগীর ঘটনায় সেই জায়গাতেই বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মণি চক্রবর্তী: ৯ মাস পর গ্রেপ্তার, সামনে ব্যবসায়িক বিরোধ
নরসিংদীর পলাশে মণি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডটি ঐক্য পরিষদের তালিকার ১০ নম্বরে রয়েছে। ৫ জানুয়ারি রাতে চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুরে নিজ বাড়ির ফটকের সামনে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রথম দিকের মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই রাজেন্দ্র চৌহান রাজুকে সন্দেহ করা হয় বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রাজেন্দ্র ছিলেন মণির ব্যবসায়িক অংশীদার। দুজন মাটি কাটার যন্ত্র বা এক্সকাভেটর এবং পাথরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরে মণির পরিবার নতুন করে রাজেন্দ্রসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবিকে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজেন্দ্র চৌহান রাজু ও সাগর চৌহানকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। অর্থাৎ ঐক্য পরিষদের তালিকায় হত্যাকাণ্ডটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে থাকার সময়ও এর প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত চলছিল। প্রায় নয় মাস পর তদন্তে যে ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হলো, তাঁদের সঙ্গে নিহতের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু ধর্মীয় বিরোধ নয়, বরং ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন থেকেই যায়- মণি চক্রবর্তীকে হত্যার পেছনে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য থাকার প্রমাণ কী ছিল, যার ভিত্তিতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো?
রানা প্রতাপ: তদন্তে চরমপন্থী সংগঠনের কোন্দল
ঐক্য পরিষদের তালিকার ৯ নম্বরে রয়েছে যশোরের বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ড। গত ৫ জানুয়ারি মণিরামপুরের কপালিয়া বাজারে তাঁকে বরফকল থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করা হয়। পরে তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, হত্যার কারণ তখনো জানা যায়নি এবং তদন্ত চলছে।
পরদিন রানা প্রতাপের বাবা তুষার কান্তি বৈরাগীও বলেছিলেন, কোনো স্বার্থগত কারণে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কিন্তু প্রায় দেড় মাসের মধ্যে তদন্তে হত্যাকাণ্ডের ভিন্ন চিত্র সামনে আসে। ফেব্রুয়ারিতে যশোর ডিবি পুলিশ মাহমুদ হাসান হৃদয় ও শামীম হোসাইনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন ও ছুরি উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। পরে তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রানা প্রতাপ ছিলেন নিষিদ্ধ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির মণিরামপুর অঞ্চলের নেতা। আর গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ছিলেন আরেক নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। দুটি সংগঠনের বিরোধের জেরেই রানা প্রতাপকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রানা প্রতাপের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার তথ্যও হত্যার পরপরই পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আসে। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের সময় কারণ অজানা থাকলেও তদন্ত শেষে পুলিশ যে কারণ সামনে এনেছে, সেটি ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়; বরং দুটি নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠনের বিরোধ। তারপরও ঐক্য পরিষদের তালিকায় ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে রয়ে গেছে। তাহলে তালিকা তৈরির ভিত্তি কী? এখানেই মূল প্রশ্ন।
তিনি বলেন, কোনো সংখ্যালঘু নাগরিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিঃসন্দেহে তদন্তের দাবি রাখে। কোনো হত্যাকাণ্ডে ধর্মীয় বিদ্বেষের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু তদন্তে যদি হত্যার অন্য কারণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রাথমিক ধারণাকে পরবর্তী তদন্তের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে যখন কোনো সংগঠন একটি ঘটনাকে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’ হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরে, তখন সেই শ্রেণিবিন্যাসের পদ্ধতি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।
২৫৭ ঘটনার তালিকায় কি সাধারণ অপরাধও ঢুকছে?
মণি চক্রবর্তী ও রানা প্রতাপের ঘটনা দুটি বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়, এমন অভিযোগ উঠছে আরও কয়েকটি ঘটনা নিয়ে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের তালিকায় কুমিল্লার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মৃত্যুও রয়েছে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে মারা যান। ফলে এখানেও প্রশ্ন হচ্ছে, ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হত্যার শিকার হওয়াকে একই শ্রেণিতে ফেলা কতটা যুক্তিসঙ্গত।
একইভাবে কোনো জমি নিয়ে বিরোধ, ব্যবসায়িক লেনদেন, ব্যক্তিগত শত্রুতা, ছিনতাই বা চরমপন্থী সংগঠনের দ্বন্দ্বে কোনো সংখ্যালঘু ব্যক্তি নিহত হলে, হত্যাকারীর উদ্দেশ্য কী ছিল সেটিই হওয়া উচিত শ্রেণিবিন্যাসের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন। শুধু নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় সেই প্রশ্নের উত্তর হতে পারে না।
আগের প্রতিবেদন নিয়েও একই প্রশ্ন
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি নিয়ে ঐক্য পরিষদের প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনায় নয়জন হিন্দু নিহত হওয়ার বিষয়টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই নয়জনের মধ্যে দুজন জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত ব্যক্তি ছিলেন বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আরও কিছু মৃত্যুর ক্ষেত্রেও ধর্মীয় বিদ্বেষের বদলে রাজনৈতিক সংঘাত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়।
এ ধরনের শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন শুধু একটি সংগঠনের প্রতিবেদনকে ঘিরে নয়। কারণ একটি ঘটনা ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’ হিসেবে একবার প্রচারিত হলে সেটি পরে সংবাদ প্রতিবেদন, মানবাধিকার প্রতিবেদন, আন্তর্জাতিক সংস্থা কিংবা বিদেশি নীতিনির্ধারকদের আলোচনায়ও উদ্ধৃত হতে পারে। ফলে প্রাথমিক তথ্য ভুল হলে তার প্রভাবও এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না।
তবে এসব প্রশ্নের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন বা ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ ঘটে না। মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ভয় দেখানো, বুলিং, জমি দখলের চেষ্টা কিংবা ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কিন্তু প্রকৃত ঘটনাগুলোকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে সামনে আনতে হলে পরিসংখ্যানও হতে হবে নির্ভুল। কারণ পাঁচটি সাম্প্রদায়িক হামলার জায়গায় যদি পাঁচশটি সাধারণ অপরাধকে একই শ্রেণিতে ঢোকানো হয়, তাহলে প্রকৃত পাঁচটি ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
২৫৭ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি
এ কারণে ঐক্য পরিষদের প্রকাশিত ২৫৭টি ঘটনাই স্বাধীনভাবে যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি, মামলার এজাহার, তদন্ত প্রতিবেদন, গ্রেপ্তার, আদালতের নথি, ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য এবং অপরাধের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ কাজে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, মানবাধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে যুক্ত করা যেতে পারে।
তদন্তে কোনো ঘটনা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার কোনো ঘটনা সাধারণ অপরাধ, ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক সংঘাত, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো কারণে সংঘটিত হয়ে থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
কারণ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি এত গুরুত্বপূর্ণ যে, সেখানে ভুল পরিসংখ্যান বা অপর্যাপ্ত যাচাই কোনো পক্ষেরই উপকার করে না। বরং প্রকৃত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা চিহ্নিত করতে হলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত—অভিযোগ নয়, প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করা।








