গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা, পুরোনো পথেই হাঁটবে বিএনপি

সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আলোচনা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি ও মতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা এবং কিছু ক্ষেত্রে পিছু হটার ইঙ্গিত সরকারের এমন দ্বৈত অবস্থান দেশের আপামর জনতাকে ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হওয়ার পথে রয়েছে। শেষপর্যন্ত গণভোটের গণরায় এবং রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন শেষপর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকেÑ সেটিই এখন দেখার অপেক্ষায় দেশের আপামর জনসাধারণ।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ বিলুপ্ত বা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে গণভোটে ‘হ্যা’ বিজয়ী হওয়ার পরও সরকারের জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত। সেই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির এমপিদের শপথ না নেওয়াও সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে এক বড় প্রশ্ন তুলেছে। যদিও নির্বাচনের আগে থেকেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্য জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে নির্বাচনের পর জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় নিয়ে সরকারি দল বিএনপির কর্মকাণ্ড জনসাধারণের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি সেই ১৯৯১ সালের তিন দলীয় রূপরেখা বাস্তবায়ন না করার মতো পুরোনো ধারায় হাঁটছে বলেই মনে করছেন বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যরা।
এদিকে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদে গত শনিবার রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবের ১ দফার ঘোষক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘‘গণভোটের রায় না মানলে সরকারকে ‘অবৈধ ঘোষণা’ করে আন্দোলন করা হবে।’ আর বর্ষা বিপ্লবের শীর্ষনেতা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ’২৪-এর অর্জন রক্ষা না হলে ২০২৬-২৭-এ ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
সব মিলিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছে। সংসদ ছাপিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন মাঠের আন্দোলনে গড়াচ্ছে।
সম্প্রতি সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই যে আদেশ (জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন) এই আদেশটা না অধ্যাদেশ, না আইন; মাঝামাঝি জিনিস...এটা হয়তো কোনো নিউট্রাল জেন্ডার হতে পারে।’ তিনি সেখানে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর, রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি করার ক্ষমতা রইল না। পরে জুলাই সদন বাস্তবায়ন আদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অন্তহীন প্রতারণার দলিল হিসেবেও আখ্যায়িত করেন ট্রেজারি বেঞ্চের এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তবে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ড. নাজিবুর রহমান মোমেন আইনের সাংবিধানিক সংজ্ঞা তুলে ধরে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন।’
অন্যদিকে সদ্য নিয়োগ পাওয়া অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমে লেখা একটি কলামে লেখেন, ‘ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করতে পারেন। তার যুক্তিতে, সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে ‘আইন’-এর সংজ্ঞা অধ্যাদেশের পাশাপাশি আদেশও আইনের অন্তর্ভুক্ত বলে বলা হয়েছে। তার এই ব্যাখ্যায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, ‘আইন’ অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি...। ‘আদেশ’ যে আইনের অন্তর্ভুক্ত সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। মূল বিতর্ক হলো, রাষ্ট্রপতি বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোতে ‘আদেশ’ জারি করতে পারেন কি না? সরাসরি উত্তর— ‘না।’
একই বিষয়ে ডেভিড বার্গম্যান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে স্বতন্ত্রভাবে ‘আদেশ’ জারি করার কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। সুতরাং আদেশটি যেহেতু সংবিধান বা কোনো বৈধ আইনগত ক্ষমতার ভিত্তিতে প্রণীত নয়, তাই সংবিধানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি বৈধ আইনগত দলিল নয়।
সমস্যা হচ্ছে এখানে দুটি ভিন্ন প্রশ্নকে এক করে দেখা হচ্ছে, যার ফলে বিভ্রান্তি বাড়ছে। প্রথম প্রশ্ন‘রাষ্ট্রপতির আদেশ’ সংবিধানের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘আইন’ কি না? দ্বিতীয় প্রশ্ন— রাষ্ট্রপতির এমন আদেশ জারির সাংবিধানিক এখতিয়ার আছে কি নাÑ এই দুটি প্রশ্ন এক নয় এবং একসঙ্গে মেলানোও ঠিক নয়।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমানের বক্তব্য হলো ‘সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনের শাসনের একটি মৌলিক নীতি হলো— কোনো আইনের বৈধতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে সুপ্রিম কোর্ট। কোনো আইনকে কেউ ‘অসাংবিধানিক’ মনে করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি সুপ্রিম কোর্ট সেটিকে স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা না করছে, ততক্ষণ সেটি কার্যকর আইন (অপারেটিভ ল) হিসেবেই বহাল থাকে। এই নীতিকে সাধারণভাবে বলা হয় প্রিজামশন অব কন্সটিটিউশনালিটি’অর্থাৎ, প্রতিটি আইনকে আদালত বাতিল না করা পর্যন্ত সাংবিধানিক বলে ধরে নেওয়া হয়।
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির ভূমিকা কী ছিল
আইনের ঘোর-ঘোরালো তথ্য-তত্ত্ব বাদ দিয়েও সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নোট অব ডিসেন্টসহ স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে দেওয়া এক বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বিএনপি এই সনদের পক্ষে রয়েছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন । তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির মনোভাবের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী জোটের নেতা ও সংসদ সদস্যরা। সরকারি দল বিএনপি ও তাদের জোটের কিছু কিছু সংসদ সদস্যের বক্তব্যও সেই সন্দেহকে আরও উসকে দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থের বক্তব্য ছিল উল্লেখযোগ্য। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বিরোধী দলের উদ্দেশে পার্থ বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে। আপনারা জনগণকে বাধ্য করেছেন।
এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে দুটি সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ পক্ষে প্রচার চালালেও তৃণমূলের নেতাদের একটা বড় অংশ সরাসরি না ভোট দিতে মানুষকে উৎসাহিত করার খবর পত্র-পত্রিকায় পাওয়া যায়। দলের শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ তো বলেছেন, ক্ষমতায় আসলে বিএনপি জুলাই সনদ মানবে না। দলের এই মনোভাব থেকে এবং যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মাধ্যমে নির্বাচন ও সংসদে সরকার বৈধতা পাবে সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি জনমনে সন্দেহের সূচনা করেছে। শেষ পর্যন্ত আসলেই সংস্কার হবে কি-না, নাকি বিএনপি সেই পুরোনো পথে হাঁটবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।
তিন জোটের রূপরেখা ও অতীতের অভিজ্ঞতা
নব্বইয়ের গণআন্দোলন ও তিন জোটের রূপরেখা হলো নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর তিনটি রাজনৈতিক জোট ‘তিন জোটের রূপরেখা’ ঘোষণা করে। এই রূপরেখার মাধ্যমে তারা এরশাদের পতন এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবি করে। জোটে ছিল ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোট, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাত দলীয় জোট এবং বামপন্থি পাঁচ দলীয় জোট। জামায়াতে ইসলামী একই দাবিতে পৃথক আন্দোলন করলেও তারা কোনো জোটের অংশ ছিল না।
আন্দোলনের মুখে এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদকে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। ১৯৯১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে এবং বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি চালু করা হয়। বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা চালু করে বিএনপি সরকার। তবে রূপরেখায় থাকা অন্য অঙ্গীকারগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তী সরকারগুলোও নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য নিজেদের স্বার্থে তা উপেক্ষা করে এবং দলীয় রাজনীতি ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণত হয়। নির্বাচন ব্যবস্থা দুর্বল হয়, বিরোধিতার সংস্কৃতি ও কালো আইন বৃদ্ধি পায়, ক্ষমতাকে কুক্ষীগত করা হয়। এই ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীণ বিপ্লব ঘটে। বিপ্লবের মুখে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান, আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাকর্মীরাসহ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব পর্যন্ত পালিয়ে যান এবং অনেকে আত্মগোপন চলে যায়।
সংস্কারের এই অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই বিএনপি সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এবং এই বিষয়ে দল ও মিত্রদের অবস্থান বিরোধী দল বিশেষ করে বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল এনসিপিকে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে। সংবিধানকে স্বৈরাচার তৈরির কারখানা হিসেবে মনে করেন তারা। সেই সঙ্গে এর মধ্যে থাকা ভয়াবহ ধারাগুলোকে নিয়ে তারা বরাবর বক্তব্য দিয়ে আসছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও অতীতে বিএনপির নেতৃত্বে আন্দোলনে মানুষ আস্থা পায়নি বলে মন্তব্য করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলে এটাও সত্য যে মানুষ না তাদের ওপর আস্থাটা পায়নি। এই আস্থাটা এই কারণেই পায়নি, কারণ এর আগের ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে তিন জোটের যে রূপরেখা ছিলÑ সেই জায়গায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এর পরবর্তীতে যে উপনির্বাচন মাগুরায় হলো সেখানেও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। ১৯৯৬-এর ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন সেখানে মানুষের সঙ্গে আরেকবার প্রতারণা করা হলো। এরপরে হাওয়া ভবন দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে, এরপরে মানুষের সঙ্গে ঘুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিদ্যুতের বদলে খাম্বাÑ এ রকম অসংখ্য জিনিস দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। ঠিক এই কারণে মানুষ তারপরে এই নেতৃত্বের ওপর আর আস্থা রাখতে পারেনি।’
সংবিধান বিতর্কের সমাধানে কোন পথে?
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছে। সেই আদেশ বাতিল করলে বর্তমান সরকারের বৈধতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার আবু হেনা রাজ্জাকী। শনিবার একটি সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে তার রাজনৈতিক ভিত্তি হলো জুলাই সনদ। শুধু তাই নয় আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। আওয়ামী লীগ সরকার চলে গেল বিএনপি সরকার টেকওভার করলো। এর মাঝখানে এই যে ধারাবাহিকতাটা আপনি কীভাবে রাখবেন? সুতরাং এই দুটি সরকারের মধ্যে সেতু সেটাই হলো এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ। আর নয়তো কোনো ধারাবাহিকতা থাকবে না।
রাজ্জাকী বলেন, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা হয়নি। কাজেই আপনি সংবিধানে নেই। এর আগে বললাম বঙ্গবন্ধুর ছবি ঝুলেনি, এর আগে বললাম ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানÑ আপনারা মানেন বা না মানেন। এখন ওই যে ৯০ দিনের মধ্যে আপনি নির্বাচন করেননি তাই আপনার কোন রাইট নাই ওই সংবিধানের দোহাই দেওয়া। ওই সংবিধানের জন্য ঢোকার জন্যে ঢুকে যে ঠিক করবেন সে জন্য এই জুলাই সনদ দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি এখন এই আইনের মাধ্যমে সংস্কার পরিশোধ করেন, তাহলে আপনি একটা উইন্ডো পাবেন এই বন্ধ সংবিধানের ভেতরে প্রবেশ করার জন্যে। সুতরাং এটার মাধ্যমে (জুলাই সনদ) একটা আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে।







