বগুড়ার শাজাহানপুরে আলুচাষিদের কাছে বস্তাপ্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিনকে কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) করা হয়েছে। বুধবার রাতে সংগঠনের জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। চিঠিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে ও সশরীরে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গঠনতন্ত্র অনুসারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাবিব আব্বাসী অভিযোগ করেছেন, আলুবোঝাই ট্রাক বা ট্রাকে আলু তুললে বা জমিতে বস্তায় আলু তোলার সময় সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা পরিচয়ে যুবকরা যান। পরে ট্রাক আটকিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। তাদের বস্তাপ্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা দিলেই কৃষকরা রেহাই পান। তিনি জানান, তিনি গত ৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি থেকে আলু নিয়ে হিমাগারে যাচ্ছিলেন। পথে শাজাহানপুর উপজেলার বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে পৌঁছলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিন ও শহীদ হোসেনসহ কয়েকজন ট্রাকের গতিরোধ করেন। এ সময় তারা প্রতি বস্তা আলুর জন্য ২০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাঁদাবাজরা তাকে তুলে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত জনগণ টের পেয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের ধাওয়া করেন। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ হলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বশীলদের টনক নড়ে। যদিও অভিযুক্তরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিনকে কারণ দর্শানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও সম্প্রতি আপনারা এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন যা সমাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং তা দলীয় আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নীতিমালার পরিপন্থি। আপনাদের এ ধরনের অবস্থানকে সংগঠনের বিরুদ্ধে কার্যত বিরুদ্ধাচরণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। অতএব, কেন আপনাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে ও স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট জানাতে নির্দেশ দেওয়া হলো। ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গঠনতন্ত্র অনুসারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।