এমপিদের জন্য নতুন অফিস, হাসনাতের ‘গাড়ি দাবি’ নিয়ে হাস্যরস

উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের পর সংসদে সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে উঠে দাঁড়িয়ে একইসঙ্গে এমপিদের জন্য গাড়ি সুবিধারও দাবি তুলেন তিনি। এরপর সংসদ অধিবেশনে মুহূর্তেই হাসির রোল পড়ে যায়। সবমিলিয়ে তার দাবিকে ঘিরে সংসদে তৈরি হয় উচ্ছ্বাস আর হালকা হাস্যরসের পরিবেশ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করা হবে। যেখানে সংযুক্ত বাথরুম ও প্রয়োজনীয় আসবাবসহ দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার সুযোগ থাকবে।
তিনি বলেন, বিধিমালার কারণে এমপিদের নামে আলাদা অফিস বরাদ্দ না থাকায় প্রতিটি উপজেলায় এই কক্ষগুলো তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে পারেন।
এই ঘোষণার পরই সংসদে তৈরি হয় স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ। অনেক সদস্যই বিষয়টিকে স্বাগত জানান। এরই মধ্যে মাইক পেয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। হাসতে হাসতে তিনি বলেন,
“আমি সবসময় বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধিতা করতে দাঁড়াই। আজ আমি ধন্যবাদ দিতে দাঁড়িয়েছি। বসার জায়গা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”
এসময় তিনি এমপিদের মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম আরও সহজ করতে গাড়ির ব্যবস্থার দাবি তুলে বলেন, “ইউএনওদের গাড়ি আছে, কিন্তু আমাদের নেই। আমাদের ভাড়া গাড়িতে চলতে হয়। মানুষের কাছে যেতে হলে যদি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আরও সুবিধা হবে।”
তার এই মন্তব্যে সংসদে একযোগে হাসির রোল পড়ে যায়। এসময় হাসতে হাসতে দাঁড়িয়ে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও। তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যরা অফিস পেয়ে খুশি হয়েছেন, আবার গাড়ি না পেলে নাখোশ হবেন —এটা তো স্বাভাবিক। তাই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
সব মিলিয়ে দিনের অধিবেশনটি পরিণত হয় অন্যান্য দিনের তুলনায় স্বস্তি, আর অন্যদিকে হালকা রসিকতায় ভরা এক ব্যতিক্রমী সংসদীয় মুহূর্তে। সরকারদলীয় ও বিরোধী উভয় পক্ষের সদস্যদের প্রতিক্রিয়ায় বোঝা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে এমপিদের কাজের পরিসর আরও বাড়ানোর উদ্যোগটি রাজনৈতিকভাবে নতুন আলোচনার জন্ম দেবে।







