পশ্চিমবঙ্গে বিধান সভা নির্বাচন ঘিরে যা চলছে

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৩ এপ্রিল। মোট ২৯৪টি আসনে অনুষ্ঠিত ২ দফা ভোট শেষ হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ৪ মে। এবারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে মাত্র দুই দফায় ও এক সপ্তাহের মধ্যেই ভোট হতে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান শাসনকালের নির্ধারিত মেয়াদ আগামী ২০২৬ সালের ৭ই মে তারিখে শেষ হতে যাচ্ছে।
২০২১ সালে অনুষ্ঠিত মোট ৮ দফা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভায় পেয়েছিল ২১৫ আসন ও বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি। যেখানে রাজ্যটিতে সরকার গঠনে প্রয়োজন হয় ১৪৮ আসন। ফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা তৃতীয় বারের মত রাজ্যসরকার গঠন করে মমতা ব্যনার্জী নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালের ২০ মে থেকে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আছে এই দলটি। এর আগে টানা ৩৪ বছর বামফ্রন্টের শাসন ছিল এই রাজ্যে।
ইতোমধ্যে এই নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯১ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাকি তিনটি আসন ছেড়ে দিয়েছে পাহাড়ের মিত্র অনিল থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার জন্য। এদিকে প্রধান বিরোধী দল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপিও সবগুলো আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
সম্প্রতি আইএএনএস-ম্যাট্রিক্স পরিচালিত একটি জনমত সমীক্ষা জানিয়েছে যে, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস সামান্য ব্যবধানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের চেয়ে এগিয়ে আছে। তবে, শাসক দল এগিয়ে থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম, যা রাজ্যজুড়ে এক তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬ ওয়ানইন্ডিয়ায় পান সব আপডেট আইএএনএস-ম্যাট্রিক্সের প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস এই ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ১৪০ থেকে ১৬০টি আসন জিততে পারে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ১৩০ থেকে ১৫০টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে, যা একটি কঠিন লড়াইয়ের ইঙ্গিত বহন করে। এছাড়াও, অন্যান্য দল এবং নির্দলীয় প্রার্থীরা প্রায় ৮ থেকে ১০টি আসনে জয়ী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোটের আনুপাতিক হিসেবে দেখা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পেতে পারে যেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য ভোট ভাগ ৪১ থেকে ৪৩ শতাংশ। অন্যান্য দলগুলির ঝুলিতে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ ভোট যেতে পারে।
এদিকে আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের ওপর ভরসা রাখছে, বিজেপি সেখানে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে। এছাড়া হিন্দু জাতীয়তাবাদী মতুয়া সম্প্রদায় প্রায় ৫০টি বিধানসভা আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে সক্ষম। যারা ২০২১ সালে তারা মূলত বিজেপিকে সমর্থন করেছিল। এছাড়া সিএএ এবং এনআরসি সম্পর্কিত উদ্বেগের কারণে সংখ্যালঘু ও মুসলিম ভোটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক একটি বড় ফ্যাক্টর হবে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
নির্বাচনের মূল আকর্ষণ তৃণমূলের প্রধান মুখ মমতা বন্দোপধ্যায় এবং তাঁর ভাবমূর্তি দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। এছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দোপধ্যায়ের সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং ক্রমবর্ধমান প্রভাব নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের (মোদী-শাহ) নির্বাচনী প্রচার ও কৌশল বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এদিকে বিগত নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের ফলাফল যদিও বিগত নির্বাচনে ফলাফল আশাব্যঞ্জক ছিল না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বামপন্থীদের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন এবং ভোট ভাগাভাগি নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
এমূহূর্তে প্রচাণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সকল প্রার্থীরা। আগামী ৪ মে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই জানা যাবে পরবর্তীতে কে করা হাল ধরবে পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার।







