কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ী সীমান্তে মাদক কারবারিকে ধাওয়া করতে গিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হয়েছেন বাংলাদেশের দুই পুলিশ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের হেফাজতে নেওয়ার আগে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে বিএসএফের যোগাযোগ চলছিল।
আটক দুই পুলিশ সদস্য হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। তাঁরা ব্রাহ্মণপাড়া থানায় কর্মরত।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে এবং আজ শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ভুলক্রমে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করায় দুই পুলিশ সদস্যকে বিএসএফের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দায়িত্ব পালন করছিলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁরা উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারের তথ্য পান। এরপর সেখানে অভিযান চালাতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ওই ব্যক্তিকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তিনি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। পরে সীমান্তের ওপারে অবস্থানরত কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক তাঁকে আটক করেন।
কনস্টেবল রোহিতকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে টহল দলের দায়িত্বে থাকা এএসআই ইমরান হোসেনকেও আটক করা হয়। পরে বিএসএফের সদস্যরা দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
মারধরের অভিযোগ
আশাবাড়ী এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএসএফের হেফাজতে নেওয়ার আগে স্থানীয় কয়েকজন দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ানকে বেশি মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন ওই বাসিন্দা।
তাঁর ভাষ্য, পুলিশ সদস্যদের মারধরে জড়িত ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপারে মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফিরিয়ে আনতে বিজিবির যোগাযোগ
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির সদস্যরা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ তাঁদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) শশীদল বিওপির দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাম্প কমান্ডারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মাদক ও চোরাচালানের জন্য পরিচিত সীমান্ত
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকা মাদক ও চোরাচালানের জন্য পরিচিত। ওই এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নেই। এ সুযোগে সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের ঘটনা ঘটে।
এর আগে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর একই ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) তিন সদস্য ও তাঁদের সঙ্গে থাকা দুই নারী সোর্সকে আটক করেছিল বিএসএফ। তাঁরা মাদক উদ্ধার ও চোরাকারবারিদের ধরতে বিশেষ অভিযানে গিয়ে ভুলক্রমে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
সেই ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।








