চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন একটি ভবনের আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা গর্তে ফেলে একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ধারালো অস্ত্রের ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে ভবনের আটতলায় উঠে আশ্রয় নিলেও শেষ পর্যন্ত সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। নিহতের নাম আশফাক কবির সাজিদ (১৭)। ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ সামনে এসেছে। নিহত আশফাক নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। ঘটনাটি ঘটে রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিকের একটি নির্মাণাধীন ভবনে। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার এক বন্ধু ফোন করে ওই এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান করা কয়েকজন তরুণ তাকে ঘিরে ফেলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখায়। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর তাকে জোর করে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে আশফাক পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেন এবং দৌড়ে আটতলায় উঠে যান। কিন্তু হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী গেট খুলে দেন। পরে তারা ওপরতলায় উঠে গিয়ে আশফাককে মারধর করে এবং একপর্যায়ে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা গর্তে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে চকবাজার থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজনকে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, পরবর্তী অভিযান ও তথ্য যাচাইয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার পেছনে কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহতের বাবা বলেন, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না। কেন তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় কিশোর গ্যাং তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। এই ঘটনার পর সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনের পুরো চিত্র উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত সব দিক খোলা রাখা হচ্ছে। তবে এক তরুণ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু চট্টগ্রামে নতুন করে নিরাপত্তা ও কিশোর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। টিআই/