আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, সংসদে আইন পাস

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা পূর্বের অধ্যাদেশ এখন পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামোতে রূপ নিলো।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
নতুন আইনের ৩ ধারায় নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সত্তা বা সংগঠনের পক্ষে সব ধরনের প্রচারণা, প্রকাশনা এবং জনসম্মুখে কার্যক্রমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, মুদ্রণ, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানো যাবে না। একই সঙ্গে মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন কিংবা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এটির ওপর বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য সময় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, বিলটির কপি হাতে পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে তা পাস করা যথাযথ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কার্যপ্রণালী বিধির দোহাই দিয়ে তার আবেদন নাকচ করে দেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব জমা না পড়ায় এখন আর আলোচনার সুযোগ নেই।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, এই সংশোধনী মূলত একটি ‘গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের’ কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল এবং এনসিপির আন্দোলনের ফলে যে জনমত তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন এই আইন। এই আইনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর একই বছরের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ মে একটি অধ্যাদেশ জারি করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার। সর্বশেষ সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে সেই স্থগিতাদেশ এখন স্থায়ী আইনি রূপ পেল।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়, যার ফলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী হলো।
টিআই/







