২০২৪-এর অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার ও আওয়ামী লীগ নেত্রী

নয়াদিল্লি: জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সহিংসতা ও হত্যা মামলায় সাবেক স্পিকার ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেত্রী শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৪:৩০ মিনিটে ধানমন্ডিতে তার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূলত ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে আহত আশরাফুল নামক এক ব্যক্তি গত ২৫ মে (২০২৫) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
পুরানো মামলার বোঝা
এটিই শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে একমাত্র মামলা নয়। এর আগে গত বছরের ২৭ আগস্ট রংপুরে জুলাই আন্দোলন চলাকালে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মুসলিম উদ্দিন নিহতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও অভিযুক্ত, যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
সংসদীয় ইতিহাসে দীর্ঘ পরিক্রমা
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে শিরীন শারমিন চৌধুরী এক অনন্য নাম। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হিসেবে যাত্রা শুরু করে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। টানা চার মেয়াদে তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া
এদিকে শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মিলে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “গণগ্রেপ্তার এবং রিমান্ডের নামে নির্যাতন চালিয়ে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা চলছে, যা দেশের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।”
সাবেক স্পিকারকে আজই আদালতে তুলে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন দেবদত্ত চক্রবর্তী।







