শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তিতে ভাড়া নেওয়া জমির ভাড়া এখন থেকে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে, এমন দাবি করে রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা কয়েক লাখ টাকার পণ্য, ল্যাপটপ, সিসি ক্যামেরা ও ডিভিআর খুলে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় কুরিয়ার সার্ভিসটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগে শিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এ জে আর গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শতাধিক ব্যক্তি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তাঁরা প্রথমে কার্যালয়ের আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে দেন। এরপর হামলাকারীদের একটি দল দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেয়।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের অনেকের মুখে মুখোশ ও মাথায় হেলমেট ছিল। ভেতরে ঢুকে তাঁরা গুদাম ও কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরা এবং ডিভিআর খুলে নিয়ে যান। এ সময় কার্যালয়ের আসবাব ভাঙচুর করা হয়। কয়েকটি ল্যাপটপ ও পণ্যও লুট করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
এ জে আর গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেয় এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিস। ওই জমিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গুদাম ও কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এত দিন শিকদার গ্রুপকে নিয়মিত ভাড়া দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা দাবি করেন, শিকদার গ্রুপের মালিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে। ভাড়া না দিলে সেখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়।
তবে শিকদার গ্রুপের মালিকের সঙ্গে হামলাকারীদের কথিত যোগাযোগের দাবি কিংবা জমির ভাড়া ইমনকে দেওয়ার নির্দেশের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বন্ধ কুরিয়ার কার্যক্রম
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের ওই কার্যালয় থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি গাড়ির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়। হামলা ও লুটপাটের পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাউকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জমির ভাড়া নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।








