গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে মাদকসহ আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছেন একদল ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফাঁড়িতে হামলা, ইট-পাথর নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের দাবি, আটক দুই মাদক কারবারির স্বজনেরা তাঁদের ছিনিয়ে নিতে এ হামলা চালান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে জয়দেবপুর জংশন স্টেশন এলাকায় মাদক বিক্রির সময় ৫৮ পিস ইয়াবা ও ১১ হাজার টাকাসহ শিমলা (২২) ও আনিস (১৮) নামের দুজনকে আটক করে দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে পুলিশ। পরে তাঁদের জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য, আটকের কিছুক্ষণ পর রামদা, চাইনিজ কুড়াল, হাসুয়া ও লোহার রডসহ ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষ ফাঁড়িতে হামলা চালান। তাঁরা আটক দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা ফাঁড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন এবং দা দিয়ে দরজায় কোপ দেন।
হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গিয়ে সহকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট নুরুল হক ও কনস্টেবল আশিকুর রহমান আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজনই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে একদল যুবককে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে হামলা চালাতে দেখা যায়। ভিডিওতে ফাঁড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দৃশ্যও রয়েছে।
ঘটনার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, বিকেলে মাদক কারবারের সময় দুজনকে হাতেনাতে আটক করে ফাঁড়িতে আনা হয়। এর কিছুক্ষণ পর একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ফাঁড়ি ঘেরাও করে হামলা চালান। তাঁদের প্রতিহত করতে গিয়ে রামদার আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ঘটনায় কতজন জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।








