বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই ভারতে চলমান জেন-জি আন্দোলন শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার যে লড়াই শুরু হয়েছিল, ভারতের তরুণদের চলমান আন্দোলনের লক্ষ্যও একই। বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি দুই দেশের তরুণদের মধ্যে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও সাধারণ সম্মেলন উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন নেহা বোরা। মঙ্গলবার নিজেদের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তাটি প্রকাশ করে সংগঠনটি।

ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা বলেন, ‘ভারতজুড়ে এখন যে জেন-জি আন্দোলন চলছে, তা মূলত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে দেখে।’

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ভারতের তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে পথ দেখানোর জন্য ও ভারতের তরুণসমাজের প্রতি সমর্থন জুগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা ছিল, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই। বর্তমানে ভারতে যে বিক্ষোভ চলছে, তার উদ্দেশ্যও এক।’

বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে এআইএসএর এই নেত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। আপনাদের কাছ থেকে আমরা অনুপ্রেরণা পেয়েছি ও আপনাদের করা আন্দোলন থেকে শিখতে পেরেছি। আশা করি, আপনারা ও আমরা মিলে একটি ভালো দক্ষিণ এশিয়া গড়তে পারব।’

নেহা বোরার বক্তব্যে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ভারতের তরুণদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সংহতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা দুই দেশের তরুণদের আন্দোলনের অভিন্ন ভিত্তি।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও সাধারণ সম্মেলন উপলক্ষে দেওয়া এই বার্তায় দুই দেশের প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর পারস্পরিক সংহতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা জানিয়ে নেহা বোরা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের সম্মিলিতভাবে একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।