গণভোটের ফলাফল অস্বীকার করা হলে জুলাইয়ে মতো দেশ আবারও জেগে উঠবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি দাবি করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের কঠোর প্রয়োগ থাকলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে নয়, বিদেশে থাকার কথা ছিল। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে পটুয়াখালী-২ আসনের এই সংসদ সদস্য সংবিধান, গণভোট এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “৭২ সালের সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে থাকার কথা না, দেশের বাইরে থাকার কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও এখন দেশের বাইরে থাকার কথা।” তিনি আরও বলেন, সংবিধান নিয়ে বারবার আলোচনা হলেও বাস্তবে এটি জনগণকে সুরক্ষা দিতে পারেনি। “সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারতো, তাহলে অনেক সংকটময় মুহূর্তে আমাদের এর আশ্রয় নিতে হতো না,”—মন্তব্য করেন তিনি। গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সরকারি দলের অবস্থানের সমালোচনা করে ড. মাসুদ বলেন, গণভোটের প্রতি অবজ্ঞা দেখানো হলে তা দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে। “৭০ শতাংশ মানুষ যদি গণভোটের পক্ষে রায় দেয়, সেটাকে অস্বীকার করা হলে গোটা বাংলাদেশ আবার জেগে উঠবে এবং গণভোট কার্যকর করবে,”—বলেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগও তুলে ধরেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, একাধিক মামলায় জামিন পেতে তার দীর্ঘ সময় লেগেছে এবং কারাভোগের সময় তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার ও নিখোঁজ হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ড. মাসুদ দাবি করেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা থেকে তাকে ও তার সহকর্মীদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। “আমাদের বলা হয়েছিল—মন্ত্রিত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ সব দেওয়া হবে, শুধু নির্দিষ্ট নীতিতে আসতে হবে,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “সংবিধান যদি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হতো, তাহলে অনেক রাজনৈতিক নেতাকেই কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হতো। অথচ এখন সেই সংবিধান নিয়েই ভিন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে।” গণভোটের বিরোধিতাকে তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, “গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে জনগণের বৃহৎ অংশের মতামতকে অস্বীকার করা।” একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আবার যদি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়, তাহলে এর মূল্য দিতে হবে।” টিআই/