প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। গতকাল শনিবার পরীক্ষা শুরুর মাত্র ৩০ মিনিট আগে স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা। রাজধানীর একাধিক কেন্দ্রে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে তাঁরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেন।
সরেজমিনে রাজধানীর মতিঝিলের বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কলোনি উচ্চবিদ্যালয়, বালক উচ্চবিদ্যালয় ও বাঙলা কলেজ কেন্দ্র ঘুরে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এসব স্থানে চাকরিপ্রার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদ জানান। এ সময় তাঁরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারী পরীক্ষার্থীরা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে তাঁরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অনেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসে পরীক্ষা দিতে পারেননি। এতে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার পেছনে ব্যয় করা অর্থ নষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
পরীক্ষার্থীরা আরও বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের আগে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠার পরও কেন শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে হলো, তার জবাব দিতে হবে। নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পেছনে কারা জড়িত, তা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
এর আগে শনিবার সকাল ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা শুরুর মাত্র ৩০ মিনিট আগে তা স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা প্রার্থীরা বিপাকে পড়েন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। নতুন পরীক্ষার তারিখ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।








