বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। তবে সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।
রোববার সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করাই সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসূচির নামে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
‘লকডাউন’ ঘিরে ককটেল, বাসে আগুন
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও পার্কিং করা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চালানো অপতৎপরতা বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোটরসাইকেলসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হাইকোর্টের প্রধান ফটক ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অন্য ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের এক দিন আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের পর নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিন শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয় এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, বাবুবাজার, সায়েন্সল্যাব, মহাখালী ও গুলিস্তান এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কাফরুল থানার সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশ মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করেছে।
‘জনগণ ও সরকার শঙ্কিত নয়’
আওয়ামী লীগের চলমান কর্মসূচি ও এসব ঘটনার বিষয়ে সরকার বা জনগণ শঙ্কিত নয় বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দেশের মানুষ ইতিমধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ বা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অন্যদেরও শনাক্ত করার কাজ চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে জনমতের মাধ্যমে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে দেশে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। একই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা করেছে।
উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তেজগাঁওয়ে আটক ২৩
এদিকে তেজগাঁওয়ে একটি মসজিদে নামাজের পর গোপন বৈঠক থেকে ২৩ জনকে আটকের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাইয়ের পর ১১ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদের বিরুদ্ধে নতুন একটি উগ্রবাদী সংগঠন গঠনের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। উগ্রবাদ দমনে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গ্যাস সংকট কাটাতে ১৫০ কূপ
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অতীতে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধানে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়াকে জ্বালানি সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের উৎস বাড়াতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ১ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জ্বালানিতে স্বনির্ভরতার দিকে এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।








