সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ডিবির হেফাজতে নেওয়া হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে রাকিবুল ইসলামের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি তার নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাইরাল হওয়া অডিওর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিএমপি থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ডিবির একজন কর্মকর্তা এবং ডিএমপি সদরদপ্তরের দুজন কর্মকর্তা রয়েছেন। ওই কমিটিই রাকিবুল ইসলামকে ডেকেছে। অডিওটির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে রাকিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত ওই অডিওতে একজন ব্যক্তিকে পুলিশের সক্ষমতা, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অবস্থান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে কথা বলতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়।
অডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।’
অডিওতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন বলেও দাবি করা হয়। তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অবস্থান ভিন্ন বলে কথোপকথনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়।
পুলিশের বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও অডিওতে কথোপকথন রয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমেও আসে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে রাকিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।
তবে ভাইরাল হওয়া অডিওর বক্তব্য নিজের নয় বলে দাবি করেছেন রাকিবুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার প্রত্যাহারের পর নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, অডিওটি ‘অ্যাডভান্স এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন অডিও তৈরি করা সম্ভব, যা শুনলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কণ্ঠ বলেই মনে হতে পারে। যাচাই-বাছাই ছাড়া অডিওটি প্রচার না করার জন্য তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
এখন তিন সদস্যের কমিটি অডিওটির উৎস, কণ্ঠের সত্যতা এবং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখবে। একই সঙ্গে অডিওতে পুলিশের পদায়ন নিয়ে ঘুষ লেনদেনের যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেটির কোনো ভিত্তি আছে কি না, থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কারা, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে অডিওটি কখন ও কোথায় রেকর্ড করা হয়েছে, কথোপকথনে থাকা ব্যক্তিরা কারা এবং অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, এসব বিষয়ও উঠে আসতে পারে।
রাকিবুল ইসলামের দাবি এবং ভাইরাল অডিওর বক্তব্যের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। তিন সদস্যের কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী তদন্তে অডিওটির প্রকৃত উৎস এবং এর সঙ্গে রাকিবুল ইসলামের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।








