শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ অবস্থান জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি কথা বলেন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো, জেনজিদের ভোট ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে।
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে। দলটি আগে নিষিদ্ধ থাকলেও এখন আবার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল। জামায়াত জানিয়েছে, তারা দেশকে স্থিতিশীল করতে একটি ঐক্য সরকার গঠনের মাধ্যমে আবারও অংশীদারিত্বে আগ্রহী।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের সুরক্ষায় রয়েছেন।
তবে রয়টার্সকে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন তারেক রহমান, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধীদলই বা কে হবে?’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধীদলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধীদল হবে।’
বিএনপি সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভে আত্মবিশ্বাসী। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, আর বাকি আসনগুলোতে তাদের মিত্ররা প্রার্থী দিয়েছে।
তারেক রহমান নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি, তবে বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে করা মতামত জরিপগুলোতে সাধারণভাবে বিএনপির জয় অনুমান করা হয়েছে। যদিও সেখানে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হয়েছে। এই জোটে জেনজি প্রজন্মের একটি দলও রয়েছে, যারা যুব-নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে।
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ভারতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গত বছর ঢাকার একটি আদালত হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ ভারতের দিক থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবে কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদার প্রয়োজন বাংলাদেশের।
তিনি বলেন, আমরা যদি সরকারে আসি, আমাদের তরুণদের জন্য চাকরি দিতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়। সুতরাং বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ বা পক্ষ আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে। তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।
শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হন, যদি মানুষ তাকে স্বাগত জানায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এর আগেই কাউন্সিলর পদে নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১২টিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচারণা চালাচ্ছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন করা যাবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এ ছাড়া ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যাঁরা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন, তাঁরাই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। আগামী ২৫ নভেম্বর হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।