ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগের দিন বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ডেপুটি স্পিকারের পদ খণ্ডিতভাবে নিতে চায় না তার দল। বরং জুলাই সংস্কার প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়নের ভিত্তিতেই বিরোধী দলের প্রাপ্য পদ গ্রহণ করতে চায় জামায়াত।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধী জোটের সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করা হবে কিনা— এ প্রশ্নে সরাসরি কোনো জবাব দেননি জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনেই বিরোধী দলের অবস্থান ‘দৃশ্যমান’ হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনকে সামনে রেখে বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যদের এ বৈঠকে দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিরোধী দল হিসেবে তাদের ভূমিকা কী হবে— তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও অর্থবহ ভূমিকা পালন করুক। আমরা আগেই পরিষ্কার করেছি, বিরোধী দল হিসেবে আমরা একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চাই।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আমাদের অবস্থান হলো— বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, আবার না বুঝে সহযোগিতাও নয়। দেশের কল্যাণে সরকারি দলের যেকোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে বিরোধী দল সমর্থন ও সহযোগিতা করবে। তবে দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয় এমন সিদ্ধান্ত নিলে প্রথমে ভুল ধরিয়ে দেওয়া, সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ জানানো হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদে কাজ না হলে জনগণের অধিকারের পক্ষে আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়াব। তবে আমরা চাই প্রথম ধাপেই সমস্যার সমাধান হোক।’
সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসুন জুলাইকে সম্মান করি। চব্বিশ থাকলেই ছাব্বিশ হবে। চব্বিশকে অমান্য করে ছাব্বিশ জাতির জন্য কোনো সুখবর বয়ে আনবে না।’
ডেপুটি স্পিকারের পদ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি অনানুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের ধন্যবাদ, তবে আমরা খণ্ডিতভাবে কিছু চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সংস্কারের যে প্রস্তাব রয়েছে, সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। ওই প্রস্তাবেই বলা আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন।’
রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করা হবে কিনা— এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কালকে আমাদের ভূমিকা দৃশ্যমান হবে। যেমন সূর্য উঠবে, তেমন ভাষণ শুনবেন এবং আমাদের ভূমিকাও দেখবেন।’
এর আগে সংসদ প্রাঙ্গণেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
এ বিষয়ে তাহের বলেন, ‘আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নাই। স্বৈরাচারের দোসর... বিএনপি কেন যে তাকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, এটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।’
এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন সময়ে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করবেন কিনা— এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত জামায়াতের এক সংসদ সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যাপারেই হটকারী সিদ্ধান্ত নেব না।’
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।