১৫ হাজার ভোটে মমতার হার, শতাধিক আসন ‘লুটের’ অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি ভবানিপুর আসনে বিজেপি নেতা ও রাজ্যের প্রধান বিরোধীদলীয় মুখ শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়েও ভরাডুবির মুখে পড়েছে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মধ্যে একটি আসনে ভোট স্থগিত থাকায় ২৯৩ আসনের গণনা চলছে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি আসনে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের পথে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেমে এসেছে দুই অঙ্কের ঘরে। ফল ঘোষণার মধ্যেই শতাধিক আসন ‘লুট’ এবং কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ভবানিপুর আসনে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন মমতা। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। পরে ভবানিপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভার সদস্য হন এবং টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
তবে এবারের নির্বাচনে সেই ভবানিপুরও তাকে রক্ষা করতে পারেনি।
ভোট গণনার শুরু থেকেই পিছিয়ে ছিলেন মমতা। ভবানিপুরে ২০ রাউন্ড গণনার মধ্যে ১৯ রাউন্ড শেষে শুভেন্দুর চেয়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ভোটে পিছিয়ে পড়েন তিনি। শেষ রাউন্ডে ব্যবধান কমানোর আশা থাকলেও উল্টো পরাজয়ের ব্যবধান আরও বেড়ে যায়।
রাজ্যজুড়ে ফলাফলও তৃণমূলের জন্য হতাশাজনক। ২৯৩টি আসনের গণনায় বিজেপি ২০৪টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল এগিয়ে আছে মাত্র ৮৪টি আসনে।
এই ফল কার্যত পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বিজেপি।
ফলাফল প্রকাশের মধ্যেই কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি একশর বেশি আসন ‘লুট’ করেছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্র ও গণনাকেন্দ্রে তাকে ধাক্কা দেওয়া এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগও করেছেন তিনি।
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ভোট গণনার একপর্যায়ে মমতা একটি গণনাকেন্দ্রে যান। পরে সেখান থেকে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আজ সেই ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে।
টিআই/







