বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিজেপি প্রধান নিতিন নবীনকে চিঠি লিখেছেন; ‘রাজনৈতিক সংলাপ শুরুতে শীর্ষ পর্যায়ে আগ্রহ’

নয়াদিল্লি: ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে আরও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ লক্ষ্যে তিনি বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-এর কাছে একটি চিঠি পাঠান। গত ৯ এপ্রিল চিঠিটি পৌঁছে দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) হুমায়ুন কবির।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হাডসন ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক সম্মেলনে বিজেপির বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বিজয় চৌথাইওয়ালে বলেন, বিএনপির এ উদ্যোগ দুই দলের মধ্যে একটি কাঠামোগত রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করার প্রচেষ্টা।
তিনি বলেন, “অতীতে বিএনপির সঙ্গে আমাদের কিছু যোগাযোগ ছিল, তবে তা খুব শক্তিশালী ছিল না। এখন বিজেপি ও বিএনপি উভয়ই সংলাপ শুরু করতে আগ্রহী। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করতে শীর্ষ পর্যায়ে আগ্রহ রয়েছে।”
নয়াদিল্লিতে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিজয় চৌথাইওয়ালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, “বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। বৈঠকে তিনি বিএনপির সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনজির উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই নতুন করে যোগাযোগ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল সীমিত।
সম্প্রতি কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের সম্পর্কে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান প্রথমবারের মতো ভারত সফর করেন। তার সঙ্গে ছিলেন হুমায়ুন কবির। সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং মন্ত্রী পীযূষ গয়াল ও হরদীপ সিং পুরি-র সঙ্গে বৈঠক করেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে “গঠনমূলক সম্পৃক্ততা” বাড়াতে এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা গভীর করার উপায় খুঁজতে ভারত আগ্রহী।
বাংলাদেশের জন্য এখন প্রধান অগ্রাধিকার হলো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করা এবং বিতর্কিত বিষয়গুলো সাময়িকভাবে পাশে রাখা। এর মধ্যে রয়েছে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি। ঢাকা ইঙ্গিত দিয়েছে, এই ইস্যুকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রধান বাধা হতে দিতে চায় না।
বাণিজ্যিক বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। গত বছর ভারত বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ভারতীয় বিমানবন্দর ব্যবহার করে ট্রান্স-শিপমেন্ট সুবিধা স্থগিত করে। এতে রপ্তানিকারকদের দূরবর্তী বন্দর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা ব্যয় বাড়িয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ জটিল করেছে।
খলিলুর রহমানের সফরে দুই দেশ বাণিজ্য প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়েও আলোচনা করেছে।
জ্বালানি খাতেও নতুন সহযোগিতার ইঙ্গিত মিলেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতজনিত সরবরাহ সমস্যার মধ্যে ভারত বাংলাদেশে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করছে।
অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প পুনরায় চালু করতে আগ্রহী, যেগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থবির হয়ে পড়েছিল।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে কঠোর হওয়া ভিসা বিধিনিষেধ শিথিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই দেশ।
প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয় দ্য প্রিন্ট-এ ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন দেবদত্ত চক্রবর্তী।







