জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেওয়া ‘আক্রমণাত্মক’ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। নিজের পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করার দাবি জানান। মঙ্গলবার (আজ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর দাঁড়িয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানান ড. শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, মাননীয় সংসদ সদস্য বয়সে আমার বড়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান—সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “তিনি বলেছেন যে, আমি বলে থাকি আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য—উনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। দুই নম্বর, উনি বলেছেন কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে কি উনাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে? এটি আমার নাগরিক অধিকার—আমি কোন দল করবো, কোন আদর্শ অনুসরণ করবো। এর ওপর হস্তক্ষেপ করার ন্যূনতম কোনো অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয়নি।” নিজের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে—এটা গুরুতর অপরাধ করেছেন। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন—এটা বাড়তি অপরাধ করেছেন।” এ সময় তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমি অনুরোধ করবো মাননীয় স্পিকার, তার এই অসংসদীয় অংশটা এখান থেকে যেন এক্সপাঞ্জ করা হয়।” ফজলুর রহমানের বক্তব্যের একটি অংশের সমালোচনা করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, “শেষে গিয়ে উনি সংসদকে ফাংশনিং করার জন্য বর্তমান জ্বালানি অব্যবস্থাপনা সংকট—যেটাই বলি—সেইটার ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে এসেছিলাম, কথা বলেছি, নোটিশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পরের দিন এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা সাথে সাথে এটা গ্রহণ করেছি। তিনি এইটাকে শেষ পর্যন্ত কনক্লুশন কী দিয়েছেন? যার মগজ যেরকম, তার কনক্লুশনও হবে তার মতো।” তিনি আরও বলেন, “একজন প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে, রাজনীতিবিদের কাছ থেকে আমি এই ধরনের আচরণ আশা করিনি।” সংসদের পরিবেশ ও রাজনৈতিক শালীনতার প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা এখানে প্রথম দিনই বলেছি—ভালো কিছু শিখতে এসেছি। কাউকে হিট করা, গালি দেওয়া—এর মাধ্যমে বড় কিছু অর্জন করা যাবে না। কিছু গলাবাজি হতে পারে বড় জোর, কিন্তু তার চাইতে বেশি কিছু হবে না।” যুক্তিনির্ভর রাজনীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আর সাধারণত যুক্তি যখন ফুরিয়ে যায়, মাথা তখন গরম হয়ে যায়। একটা প্রবাদ আছে—রেগে গেলেন তো হেরেই গেলেন। আমরা সবাই মিলে হাঁটতে চাই না, আমরা সবাই মিলে জিততে চাই। এজন্য সবাই যেন মাথাটা একটু ঠান্ডা রেখে যুক্তির সাথে সত্যনির্ভর কথাগুলো বলি। তাতে অবশ্যই দেশবাসী উজ্জীবিত হবে, এই সংসদের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে এবং দেশটাকে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।” বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শেষে স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে যদি কোনো অসংসদীয় শব্দ বা অংশ থাকে, তবে তা কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা হবে। টিআই/