মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে নতুন করে জাতিকে বিভক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ইতিহাসের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে অতিরিক্ত বিতর্ক ও ব্যাখ্যার ভিন্নতা কখনো কখনো অপ্রয়োজনীয় বিভাজন সৃষ্টি করে, যা দেশের জন্য শুভ নয়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজন প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংসদে আলোচনা-সমালোচনার পরিবেশে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই উত্তেজনা যেন জাতির স্বার্থের পরিপন্থী না হয়, সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে।” স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “সংসদের কার্যক্রম এমন একটি পরিবেশে পরিচালিত হওয়া উচিত যেখানে গঠনমূলক আলোচনা প্রাধান্য পায়।” সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ একটি গৌরবময় অধ্যায় এবং অনেক সংসদ সদস্যই মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ পরিবারের সদস্য—যা সম্মানের।” তবে এই গৌরবের বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিভেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, “জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংক্রান্ত বিল পাসের সময় বিরোধী দল সংসদে উপস্থিত থেকেও বিরোধিতা করেনি, যা একটি নীরব সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে বোঝা যায়, মুক্তিযুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি মৌলিক ঐক্য রয়েছে। তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করলেও তা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি না করে বিদ্যমান ঐকমত্যের জায়গাটিকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সংসদের কার্যক্রম এমন হওয়া উচিত যাতে বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম দেখে অনুপ্রাণিত হয়। যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, এমনকি যারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তারাও যেন অনুভব করতে পারেন যে সংসদ তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে।” এ সময় তিনি সবাইকে সংলাপ ও সহনশীলতার মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতির ঐক্য যেন অটুট থাকে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হয়।”