দেশের সংবিধান দেশের মানুষের হাতেই লেখা উচিত: বিএনপির এমপি

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে উপস্থাপন এবং সংবিধানকে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার তাগিদ দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির। তিনি বলেছেন, দেশের সংবিধান দেশের মানুষের হাতেই রচিত হওয়া উচিত এবং এটি একটি ‘জীবন্ত দলিল’ হিসেবে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সংস্কার করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পঞ্চগড়-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, সংবিধানের সপ্তম তফসিলে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষণার ইতিহাস যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা দরকার।
নওশাদ জমির বলেন, “সংবিধান একটি লিভিং ডকুমেন্ট বা জীবন্ত দলিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবর্তন ও পরিমার্জন হওয়া স্বাভাবিক।” তিনি দাবি করেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সংবিধান জনগণের অংশগ্রহণে প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়ে আসছেন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বানে দেশের মানুষ সাড়া দিয়ে যুদ্ধে অংশ নেয়। তবে সাম্প্রতিক কিছু দলিল ও সনদে তাঁর ভূমিকা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নওশাদ জমির বলেন, ইতিহাসের যথাযথ উপস্থাপন না হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
নতুন প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় তরুণদের অংশগ্রহণ একটি নতুন গতি তৈরি করেছে। তাদের উদ্দেশে তিনি আস্থা ও প্রত্যাশার বার্তা দেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি বাংলাদেশ গঠনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। “অনেক ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই সংসদ। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গড়া, যেখানে ভবিষ্যতে আর স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে,” বলেন তিনি।
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে নওশাদ জমির বলেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন উন্নয়ন ভাবনা, বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু অন্য কোনো দেশের অনুকরণ করা নয়; বরং নিজস্ব সক্ষমতা দিয়ে বিশ্বে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করা। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।







