> বিএনপি নেতাদের প্রশ্রয়ে সন্ত্রাসীদের ‘অভয়ারণ্য’
> ৫ আগস্টের পর দেড় ডজনের বেশি হত্যাকাণ্ড
> থামছে না সহিংসতার ধারা
চট্টগ্রামের রাউজানে পাহাড় ও মাটি দখল, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে সংঘাতের জেরে তিন দিনের ব্যবধানে দুই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব আর ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, ফলে উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক বাড়ছে।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ফের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তিন দিনের ব্যবধানে নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে আরও এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই তিনি হামলার শিকার হন।
নাছির উদ্দীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসের পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত দুদু মিয়া (প্রকাশ দুইধ্যা মধু)। একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তিনি বিএনপিতে সক্রিয় হন। তিনি রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাছিরকে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় মাটি কাটা, পাহাড় কাটা এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে নাছির উদ্দীনের সঙ্গে জানে আলম ওরফে ‘ডাকাত আলম’ নামের এক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। কয়েক মাস আগে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন।
এর আগে, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসার উর জামান বাবলু নামে আরেক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে রাউজান ক্রমেই সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দখল ও আধিপত্যের লড়াই বেড়েছে, যার জেরে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে।
তাদের দাবি, গত কয়েক মাসে উপজেলাটিতে দেড় ডজনেরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর বেশিরভাগই রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে, বাকিগুলো পারিবারিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও দখলসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় স্কয়ার মাস্টার বাড়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি সরকার ও দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সাথী আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে আটক করেছে পুলিশ।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের তিন সদস্যকে মারধর করা হয়েছে।
পূজামণ্ডপে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপির এক নেতাকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান। তাঁকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় প্রচার চালানোর আহ্বানও জানান তিনি। এ সময় সংসদ সদস্যের (এমপি) পাশে বসে হাততালি দেন পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার। ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।