নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাছুম মোস্তফা। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে পেশাদার খুনি ভাড়া করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিন ছিল সেদিন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাছুম মোস্তফা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাগরিবের নামাজের সময় তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে একটি ফিলিং স্টেশনের নামাজের জায়গায় যান। সেখানে নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় বিএনপির নামধারী কিছু লোক তার গাড়িতে হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, হামলার শব্দ শুনে তার লোকজন এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে হামলাকারীরা তাকে খুঁজে বের করতে ওই মসজিদেও প্রবেশের চেষ্টা করে। মুসল্লিরা দরজা বন্ধ করে দিলে তারা অস্ত্র দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা চালায় বলেও তিনি জানান। মাছুম মোস্তফা সংসদে বলেন, হামলাকারীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তার দাবি, পরে তিনি জানতে পারেন যে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে পেশাদার কিলার আনা হয়েছিল। তবে মুসল্লিদের প্রতিরোধের কারণে তারা ব্যর্থ হয়। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, পরিস্থিতি এমন ছিল যে হয়তো আজ সংসদে তার জন্য শোক প্রস্তাব আনতে হতো এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হতো। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তার এলাকার নেতা-কর্মীরাও আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন পরে জামিনে মুক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “অপরাধীরা প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং করছে, অথচ তালিকাভুক্ত আসামিদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আমি প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি তিনি সংবাদপত্রে দেখেছেন এবং পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো সংসদ এ বিষয়ে একমত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সবশেষে স্পিকার বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তাই ফলাফল দেখার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।