জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ‘নির্মূলের রাজনীতি’ পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে গিয়ে নিজেরাই আজ নির্মূল হয়েছে। একই পথের পদাঙ্ক অনুসরণ করা বিএনপির জন্য শোভা পায় না।
চিঠিতে ডা. ইরান উল্লেখ করেন, একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য দেখে তিনি আশ্চর্য হয়েছেন। ওই সংবাদে উদ্ধৃত ফখরুলের বক্তব্য ‘জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে’-এর সমালোচনা করে ইরান বলেন, প্রবীণ ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ হিসেবে মির্জা ফখরুলের শব্দ চয়ন ও ভাষাজ্ঞান অনন্য হলেও এমন অবস্থান হতাশাজনক।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ জিয়াউর রহমান বাকশালের ধ্বংসস্তূপ থেকে লেবার পার্টিসহ সব দলকে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার উত্তরসূরিদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয় জানিয়ে চিঠিতে ইরান লেখেন, ‘আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন সব রাজনৈতিক দলের আস্থা ও বিশ্বাসের ঠিকানা। তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াতের সমর্থনে এবং জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করেছিলেন। আপনাদের কথায় প্রমাণ হচ্ছে আপনারাও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন।’
আওয়ামী লীগের পতনের প্রসঙ্গ টেনে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, শেখ হাসিনা ১/১১ বা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারলে ১৭ বছর জনগণকে জিম্মি করে রাখত না। পিলখানা, শাপলা চত্বর বা জুলাই আন্দোলনে গণহত্যা চালাত না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতাসীন হওয়ার দেড় মাসের মাথায় যদি বিরোধী দল নির্মূলের হুমকি দেওয়া হয়, তবে কি দেশ আবার একদলীয় বাকশালের পথে হাঁটছে?
মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কারাবাসের স্মৃতি চারণ করে ডা. ইরান লেখেন, ‘হাসিনা শাসনামলে জেল-জুলুম ও শত শত মামলার শিকার হয়েও বিএনপি, জামায়াত ও লেবার পার্টিকে নির্মূল করা যায়নি। ২০০৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমরা রাজপথে আপনাদের পাশে ছিলাম। কিন্তু মহান আল্লাহ সুদিনের সুবাতাস আমাদের ভাগ্যে লেখেননি।’
চিঠির শেষে তিনি মির্জা ফখরুলকে আরজি জানান, যেন দেশের ৭০ ভাগ ভোটারের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয় এবং জামায়াতে ইসলামীসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী সক্রিয় শক্তিকে নিয়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘নির্মূলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র আল্লাহর হাতে। তাই বিভাজন না করে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার ঐক্যের বিএনপিকে নিয়ে পথ চলুন।’
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।