ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, সারা বিশ্বেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি গড়ে ওঠে তাদের পড়াশোনা ও গবেষণার কারণে। কিন্তু আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচিতি গড়ে ওঠে রাজনৈতিক কারণে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলোচনায় আসে রাজনৈতিক হানাহানি ও অস্থিরতার কারণে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দলের নিয়মিত বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ইউনুস আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কিন্তু সাম্প্রতিক চট্টগ্রামে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা আমাদেরকে উদ্বিগ্ন ও হতাশ করেছে। দলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে এবং পরস্পর বিরোধী কর্মকাণ্ডে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শক্তহাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা আহবান জানায়। একই সঙ্গে ছাত্র সংগঠন দুইটিকে গঠনমূলক শিক্ষাবান্ধব রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চার আহ্বান জানায়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলের মহাসচিব বলেন, একটি স্বাধীন ও আধুনিক রাষ্ট্রে ছাত্র রাজনীতি হওয়া উচিৎ পড়াশোনা, গবেষণা ও দক্ষতাকেন্দ্রীক। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি হয়ে উঠেছে দলীয় লেজুড়বৃত্তি। এর অবসান হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেরর যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কেএম আতিকুর রহমান, প্রচার ও দাওয়াহ্ বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মুফতী হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মকবুল হোসাইন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দেলাওয়ার হোসেন সাকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ জান্নাতুল ইসলাম, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (এলএলবি), ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম রুহুল আমীন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ্ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, সহ-দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট বরকতুল্লাহ লতিফ, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি রেজাউল করীম আববার, সদস্য মাওলানা শামসুদ্দোহা আশরাফী ও ডা. শহিদুল ইসলাম।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।