ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে আবারও ১৯৯৬ সালের মতো সরকার পতনের আন্দোলন হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ।
তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন শিবিরের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হামিদুর রহমান আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকার পতনের আন্দোলন হবে। যার ফলে ১৯৯৬ সালে তারা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। আমরা আশা করি, ছাত্রশিবিরকে আবারও তেমন কোনো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে আপনারা বাধ্য করবেন না।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা, তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা হত্যার বিচার এবং দেশব্যাপী ছাত্রদলের অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রশিবির।
মিছিলটি রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড় থেকে শুরু হয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে দিয়ে পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ মিছিলে ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ধারাবাহিক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের বারবার রাজপথে নামতে হয়েছে। কখনো ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, কখনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের চক্রান্তের প্রতিবাদে, আবার কখনো নিষিদ্ধ সংগঠন ‘লীগ’-এর কর্মীদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধেও আমরা সোচ্চার থেকেছি।
তিনি বলেন, গতকাল চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থী, সম্মানিত শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা যে ন্যাক্কারজনক ও বর্বর হামলা চালিয়েছে, তার প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। এই হামলায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আশরাফুল ইসলাম ভাইয়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে। গত কয়েক মাস আগে ছাত্রদল কর্তৃক তেজগাঁও কলেজ ছাত্র সাকিবুল হাসান রানার হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেজগাঁও কলেজের মেধাবী ছাত্র সাকিবুল হাসান রানাকে রুম থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে যারা হত্যা করেছে, সেই সকল ছাত্রদলের গডফাদার ও সন্ত্রাসীদের অনতিবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের এই সহিংস আচরণ নতুন কিছু নয়। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তারা ক্যাম্পাসগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুমের মতো বড় ভাই অপসংস্কৃতি চালু করেছিল। ২০০১ সালেও তারা সাধারণ ছাত্রদের 'দলদাসে' পরিণত করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুয়েট ছাত্রী সাবিকুন নাহার সনি হত্যাকাণ্ড এবং ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে ছাত্রীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের কলঙ্কিত ইতিহাস তারা তৈরি করেছে।
এমনকি ১৯৯৩ সালে তৎকালীন শিবিরের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হামিদুর রহমান আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকার পতনের আন্দোলন হবে। যার ফলে ১৯৯৬ সালে তারা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। আমরা আশা করি, ছাত্রশিবিরকে আবারও তেমন কোনো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে আপনারা বাধ্য করবেন না।
তিনি বলেন, ছাত্রদল শুধুমাত্র নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তারা যুগে যুগে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের কাজও করে এসেছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কমিটি গঠনের পর ছাত্রদলেরই একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, ছাত্রদলের প্যাড ব্যবহার করে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি তারা তালিকা প্রকাশ করে দাবি করেছে, বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যেও এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যারা পূর্বে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের ভাষায়, বর্তমান ছাত্রদল মূলত ছাত্রলীগের একটি ‘এক্সটেন্ডেড ভার্সন’।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও আমরা ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ দেখতে পেয়েছি। একইভাবে পাবনা মেডিকেল কলেজে গঠিত কমিটিতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত ব্যক্তির উপস্থিতির দাবি উঠেছে।
আজাদ বলেন, শুধু ছাত্রদল নয়, নির্বাচনের আগে বিএনপিও একই ধারায় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে আমরা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল কিংবা বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতে এমন প্রবণতা দেখেছি; বর্তমানে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং মহানগর পশ্চিম সভাপতি হাফেজ আবু তাহেরসহ শাখা সেক্রেটারি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।