রাষ্ট্রের সর্বত্র অব্যবস্থাপনা দৃশ্যমান— এমন অভিযোগ করে সরকারকে কাজে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ। তিনি বলেছেন, জ্বালানী ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাচারিতা দেখা গেছে তা অর্ধশতাব্দীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্রে কল্পনা করাও কঠিন। মঙ্গলবার বিকেলে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের নিয়মিত বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, একটি সফল গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বত্র অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দৃশ্যমান। জ্বালানী ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাচারীতা দেখা গেছে তা অর্ধশতাব্দীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্রে কল্পনা করাও কঠিন। সরকারের তথ্যমতে তেলের মওজুদ যথেষ্ট কিন্তু তেলের জন্য হাহাকার দেখা গেল। মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হলো। জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধির পরে পরিবহনখাতসহ সকল ক্ষেত্রে যে অরাজকতা তৈরি হয় তা নিয়েও সরকারের কোনো কর্মপরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে রাষ্ট্রে কোনো সরকার আছে বলে মনে হয় না। লোডশেডিং পরিস্থিতিতে নাজেহাল হচ্ছে মানুষ। পরিস্থিতি উত্তোরণের জন্য আস্থা তৈরির মতো কোন কার্যক্রম দৃশ্যমান না। গত ঈদে গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা ছিল নজিরবিহীন। ব্যাংকিংখাতে সৃষ্ট আস্থা পুনরায় অনাস্থায় পর্যবসিত হয়েছে। এমন বাস্তবতায় সরকারকে বলবো, রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় হোন। তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নতি হয় নাই। নির্বাচনের পরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল তা হতাশায় পরিণত হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন— দলের যুগ্মমহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, লোকমান হোসেন জাফরী, মুফতি দেলওয়ার হোসাইন সাকী, মুফতি মোস্তফা কামাল, ডাক্তার শহিদুল ইসলাম, এডভোকেট হাসিবুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, মাওলানা মানসুর আহমেদ সাকী, কেএম শরীয়াতুল্লাহ ও শেখ ফজলুল করীম মারুফ।