ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়ন পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন। জানা গেছে, নাদিয়া পাঠান পাপন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য। তবে বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন ঘনীভূত হচ্ছে। সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংরক্ষিত নারী আসনে দলের ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এদিকে মেয়ের এই মনোনয়নপ্রাপ্তিতে খুশি জানিয়ে মা বললেন, ‘রাজনীতি নিয়ে আমাদের (মা-মেয়ে) মাঝে কোনো মতানৈক্য হয়নি। শ্বশুরবাড়ি থাকার সুবাদে আমার মেয়ে ঢাকাতেই রাজনীতি করেছে।’ স্থানীয় ও দলীয় সূত্র বলছে, নাদিয়া পাঠান পাপনের মা সৈয়দা নাখলু আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি, বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিষয়টি সামনে আসতেই বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে —এ ধরনের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রেক্ষাপটে মনোনয়ন কতটা যৌক্তিক। বিজয়নগর বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দল যখন দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে, তখন মাঠের নেতাকর্মীরা বাদ পড়ে অন্য রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে সেটা হতাশাজনক।” আরেকজন স্থানীয় নেতা বলেন, “এটা শুধু মনোনয়ন নয়, এটা একটা বার্তা। সেই বার্তা যদি হয় ত্যাগীদের জায়গা নেই, তাহলে তৃণমূলে ক্ষোভ বাড়বেই।” এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি পরিবারের সদস্য কীভাবে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন পেলেন। বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই।” তিনি সেখানে নাদিয়ার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন। অন্যদিকে নাদিয়া পাঠান পাপন বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় বলে দলীয় সূত্র দাবি করছে। ২০০০ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন বলে জানা যায়। তবে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার বলেন, তিনি এখন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে আছেন। মেয়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তৃণমূল বিএনপির একাংশ বলছে, পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়কে উপেক্ষা করে এমন মনোনয়ন দিলে ভবিষ্যতে দলে বিভাজন আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, “ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না হলে সংগঠনের ভেতরের ক্ষোভই সামনে বড় সংকট তৈরি করবে।” টিআই/