একমাসের ব্যবধানে দুই দফায় ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম দফায় ৩৮৭ টাকা এবং সর্বশেষ দফায় আরও ২১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এই দাম রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে। রোববার এক বার্তায় বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হবে ১ হাজার ৯৪০ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা। এর আগে এপ্রিল মাসের শুরুতেই এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা। সব মিলিয়ে, এক মাসের ব্যবধানে দুই দফায় এলপিজির দাম বেড়েছে মোট ৫৯৯ টাকা। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা, যা এপ্রিলের শুরুতে ছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা। মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিইআরসি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে এলপিজির আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটের কারণে এলপিজিবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চল সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ বা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় এলপিজি পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস বা দীর্ঘপথে আমদানি করতে হচ্ছে, এতে সময় ও জ্বালানি খরচ বেড়েছে। এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমা ও নিরাপত্তা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জাহাজভাড়া ও ট্রেডারদের প্রিমিয়াম চার্জ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রতি মেট্রিক টনে ২৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানায় বিইআরসি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও জ্বালানি পণ্যের দামে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।