কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, মুজিবনগর দিবস কারো একার না, কোনো দলের একার না। মুজিবনগর দিবস সব দলের, মতের ও পথের। এমনকি মুজিবনগর দিবস বর্তমান সরকারের, এমনকি মুজিবনগর দিবস বর্তমান যে বিরোধী দল আছে তাদেরও। মুজিবনগর দিবস তারা পালন করুক, আর না করুক।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে টাঙ্গাইলের সখীপুরে কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, মুজিবনগর সরকার গঠন না হলে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে পারতাম না। সেজন্য স্পষ্ট করে বলতে চাই- যে কারো এটা মনে করার কোনো কারণ নাই যে, মুজিবনগর দিবস আমাদের না তাদের; আমাদের না ওদের। মুজিবনগর দিবস আওয়ামী লীগ, বিএনপির না।
তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি সত্য; কিন্তু আমরা কখনো স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে পারি নাই। স্বাধীনতা কোনো দলের না, মতের না, স্বাধীনতা সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বাংলাদেশের। যে যে দলই করুক, সব দলের মানুষের হচ্ছে বাংলাদেশ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ। আমরা কখনো সার্বিকভাবে এটাকে আমরা গ্রহণ করতে পারি নাই, সর্বক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ করেছিলাম মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, মানুষের পাহারাদার হওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর কোনো চিন্তা-চেতনা, ভাবনা-আদর্শের সঙ্গে আমাদের কোনো দূরত্ব নেই। আমার দল বঙ্গবন্ধুর দল। আমার দল মওলানা ভাসানীর দল। আমি সেই আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম, যে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু বানিয়েছিলেন, যে আওয়ামী লীগ মওলানা ভাসানী বানিয়েছিলেন।
বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এক দিনের না। ৫২ তে ভাষা আন্দোলন না হলে, ৬ দফা আন্দোলন হতো না। ৬ দফা আন্দোলন না হলে, ১১ দফা আন্দোলন হতো না। ১১ দফা আন্দোলন না হলে, শেখ মুজিবের মুক্তি হতো না। তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তি পেয়েছিলাম বলেই, বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা ফাঁসি দিতে পারে নাই। ৬৯-এর গণআন্দোলনের মধ্যদিয়ে ৭০-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ মানুষ বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন করেছিলেন। তার নৌকাকে সমর্থন করেছিলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি প্রায় ২০ বছর পরে দেখলাম, তাকে আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি সামনাসামনি খালেদা জিয়ার অনেক বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু তারেক রহমানের বক্তব্য কালকেই প্রথম শুনলাম, আমার ভাল লেগেছে। তার বক্তব্যে শালীনতা আছে, তার বক্তব্যে গভীরতা আছে, জাতীয় ঐক্যের একটা আকাঙ্ক্ষা আছে। সেজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এসেছি।
এ আলোচনা সভায় সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুস ছবুর খানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক জাহাঙ্গীর, আব্বাছ আলী মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন সিদ্দিকী, ডা. জাবেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কেল আলি মাস্টার, ছাত্রনেতা শেখ সাদী প্রমুখ।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।