ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার বিচার বিভাগ, ব্যাংকিং খাতসহ রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা থেকে সরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু)।
বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা করে মজিবুর রহমান বলেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেওয়ার পর বারবার জনগণকেই প্রতারিত করা হচ্ছে। ভোটের পর হাতের কালি এখনো শুকায়নি, কিন্তু রিমান্ডের ভয়াবহ স্মৃতি যেন উধাও হয়ে গেছে।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার এবি পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবুর রহমান এ কথা বলেন। রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা হয়।
আলোচনা সভায় মজিবুর রহমান বলেন, দেশের জনগণের সহজ-সরল মনোভাবের সুযোগ নিয়ে বারবার প্রতারণা করা হচ্ছে। তবে ইতিহাস সাক্ষী, এ কোমলতা ভেঙে কঠোর হলে গণ–অভ্যুত্থান জন্ম নেয়।
ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণ–অভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের জাগরণই শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের অবসান ঘটায়।
নির্বাচন ও গণতন্ত্রের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে উল্লেখ করে মজিবুর রহমান বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের কথা থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। গণভোট জনগণের মতামত প্রকাশের সর্বোত্তম পন্থা। কিন্তু ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও সরকার উপেক্ষা করছে, যা নজিরবিহীন।
ক্ষমতাসীনেরা জনগণের ভোটকে সম্মান না করে ভোটকেই ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ভোটের পরপরই ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেও তারা কিছুদিন আগের জেল, জুলুম, রিমান্ড ও বালুর ট্রাকের কথা ভুলে গেছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মজিবুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ একদিকে অর্থনৈতিক চাপে জর্জরিত। অনেক আশা নিয়ে ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখা হলেও বাস্তবে সে আশা ভেঙে গেছে। আন্দোলনের সহযাত্রীরাই আগের প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এবি স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীরের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।
আলোচনা সভায় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নতুন বছরের শুরুতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, এ বি এম খালিদ হাসান, আলতাফ হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ প্রমুখ।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।