চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় নিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার দাবি করেছেন, সাবেক মেয়র মনজুর আলম এনসিপির সমর্থনে সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে আবু বাকের মজুমদার লিখেছেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে দীর্ঘদিন সাবেক মেয়র মঞ্জু তার রাজনৈতিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করছেন। আওয়ামী লীগ করেছে এরকম অনেকেই অভ্যুত্থানের পক্ষ নিয়েছেন। মেয়র মঞ্জু বিএনপি আওয়ামী লীগ দুটোই করেছেন এবং ৫ই আগষ্টের পরে বিএনপির পক্ষ থেকে মেয়র মঞ্জুর বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আজ যখন হাসনাত আব্দুল্লাহ মেয়র মঞ্জুর সাথে দেখা করতে গিয়েছেন তখন বিএনপির আরেক পক্ষ সেখানে গিয়ে মব চালাচ্ছে। মূলত সাবেক মেয়র মঞ্জু এনসিপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।’
আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘বিএনপি যেখানে অন্তর্কোন্দলে বিভক্ত সেখানে এনসিপির শক্তিশালী ক্যান্ডিডেট তাদের ভয়ের কারণ হবে এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি যেখানে সারাদেশে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে সেখানে বিএনপির উচিত মব কালচার বাদ দিয়ে নিরপরাধ মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি সচেতন হওয়া। পাশাপাশি নতুন করে বিএনপির কোলে উঠা কিছু মিডিয়া যেভাবে ন্যারেটিভ দিচ্ছেন তাদেরকে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহবান জানাচ্ছি।’
গতকাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় যান এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। পরে বাসার সামনে একদল যুবক জড়ো হয়ে নিজেদের জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন—এমন কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক মেয়র মনজুর আলম বলেন, চট্টগ্রামে হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি কর্মসূচি ছিল। পরে তিনি দুপুরে তার বাসায় আসার আমন্ত্রণ জানান এবং দুপুরের খাবারও গ্রহণ করেন।
তিনি জানান, বিকেল ৩টার দিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় আসেন এবং দুপুরের খাবার খান। পরে কিছু স্থানীয় যুবক বাইরে জড়ো হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেই তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সন্ধ্যার দিকে তিনি চলে যান।
জড়ো হওয়া কিছু ব্যক্তিকে মনজুর আলমকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আখ্যা দিতে শোনা যায়। তবে এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার নামে তো কোনো মামলাও নাই। আমি আওয়ামী লীগও করি না। আমি আওয়ামী লীগের দোসর কোথা থেকে হইলাম?
তিনি আরও বলেন, আমি তো বিএনপির মেয়র ছিলাম। আমি কী আওয়ামী লীগে যোগ দিছিলাম নাকি? আওয়ামী লীগের তো আমি কিছুই ছিলাম না।
সাবেক এই মেয়র বলেন, ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে আছেন এবং বর্তমানে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। তিনি এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চান কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মানুষ এটা নিয়ে কানাঘুষা করছে, তবে তিনি কাউকে নির্বাচনের বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি আরও জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
উল্লেখ্য, মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।