সংবিধানের দোহাই দিয়ে সরকার কার্যত আরেকটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে অভিযোগ করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, গণভোটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো, সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ, গুম বিরোধী অধ্যাদেশ এবং দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো একের পর এক বাতিল করা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা করছে।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এবি মিলনায়তনে জাতীয় নির্বাহী কমিটির (এনইসি) বিশেষ সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণভোটের রায় বাতিল নিয়ে জরুরি সভা করে এবি পার্টি।
সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে গায়ের জোরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বর্তমান সরকার হাসিনার ফ্যাসিবাদের কাঠামোকে টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যা, গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান কোনো দলের স্বার্থ রক্ষার ঢাল হতে পারে না। এটি জনগণের অধিকার ও ন্যায়ের প্রতীক। অথচ বর্তমান সরকার সেই সংবিধানকেই নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা দেশে নতুন করে স্বৈরাচারী প্রবণতা জোরদার করছে। সরকারের মনে রাখা উচিৎ সংবিধানের দোহাই দিয়ে হাসিনাও শেষ পর্যন্ত তার মসনদকে রক্ষা করতে পারেনি।
দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তারা বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে এবং আইনের শাসনকে উপেক্ষা করে যেভাবে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নেতৃবৃন্দ আরও সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার এ ধারা থেকে সরে না আসে এবং জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান না দেখায়, তাহলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
বক্তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এবি পার্টির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, বিএম নাজমুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা,এবিএম খালিদ হাসান,ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, ব্যারিস্টার সানী আবদুল হক, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল বাসেত মারজান ও অ্যাডভোকেট সানাউল হক।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।