জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে আত্মত্যাগকারী শহীদদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশই ছিলেন শ্রমিক। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের এ বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে এবং এতে শ্রমিক শ্রেণি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো আন্দোলন বা বিপ্লব শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া সফল হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব ইতিহাসের পাশাপাশি ইসলামের ইতিহাসেও শ্রমিক শ্রেণি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের শ্রমিকদের চাওয়া-পাওয়া খুবই সামান্য হলেও কোনো সরকারই তাদের ন্যূনতম দাবিগুলো পূরণ করতে পারেনি। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা শ্রমিকদের কষ্ট অনুধাবনে ব্যর্থ হন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মালিক-শ্রমিক বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে, শিল্পও বাঁচবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের সব দায়িত্ব মালিকের ওপর চাপিয়ে দিয়ে রাষ্ট্র দায় এড়াতে পারে না। শ্রমঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সংলাপের বিকল্প নেই। তিনি প্রতিটি পেশাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরেক বিশেষ অতিথি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের এ দিনটি ঐতিহাসিক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে শ্রমিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং কিছু নেতা ট্রেড ইউনিয়নকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন।
সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাওলানা আব্দুল হালিম তিন বছরের জন্য ৭৫ সদস্যের একটি প্যানেল ঘোষণা করলে ডেলিগেটরা কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন করেন। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন লস্কর মো. তসলিম।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা, যার মধ্যে ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ অনেকে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।