বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। ভোটাররা শুধু আমাদের জামায়াত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করেননি বরং দুর্নীতি, চাঁদাবাজমুক্ত মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই স্বতঃস্ফূতভাবে ভোট দিয়েছেন। তাই জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে জামায়াত ইসলামী বদ্ধপরিকর।’
রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের কাফরুল পশ্চিম থানার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা অতীতে আপসহীন ছিলাম, এখনো আছি, আগামী দিনেও থাকব। এ ক্ষেত্রে আমরা এক চুলও নড়বো না।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০১৮ সালে আমি এ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলাম। নৈশ্যভোটের নির্বাচনেও নানা বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে সামান্য সময়ের মধ্যে জনগণ আমাদেরকে ৩৯ হাজার ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদীরা সেদিন ভোটারদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এমনকি একজন মহিলা কর্মীর হাতও ভেঙে দেয়া হয়েছিল। আমি কর্মীর রক্তের ওপর এমপি হতে চাইনি বলে সেদিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের পর আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনের এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো বাধা-প্রতিবন্ধকতায় আমাদেরকে দমাতে পারবে না। আমরা ফ্যাসিবাদ তাড়াতে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি। আমরা আমাদের লড়াই আগামী দিনেও অব্যাহত রাখবো। প্রয়োজনে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। আমরা সংসদে আছি বা নেই তা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যা যা করণীয় আমরা তাই করবো। আমরা ন্যায়-ইনসাফের এমন এক মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো দুর্নীতি, দুঃশাসন, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য থাকবে না বরং ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে।’বাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড
তিনি স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
থানা আমির আব্দুল মতিন খানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এম আতিক হাসান রায়হানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন ও মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ। এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতারা।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।