গণ–অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানায় করা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি কারামুক্ত হন।
এর আগে গত মঙ্গলবার এই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
আজ রোববার আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত।
ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় মামলার পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত আসামির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
শিরীন শারমিনের পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী নাজিয়া কবির, এ বি এম হামিদুল মিসবাহ ও ইমরুল কায়সার। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজিয়া কবির বলেন, ‘শিরীন শারমিনের স্বাস্থ্যগত কারণ ও তাঁর ক্লিন ইমেজ বিবেচনায় আমরা জামিন আবেদন করি। আদালত আমাদের দাখিল করা যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে জামিন মঞ্জুর করেছেন।’
অপর আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিসবাহ বলেন, ‘এ পর্যন্ত অন্য কোনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই, রেকর্ডেও নেই। সে ক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী, তিনি জামিন পাবেন।’
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘আমরা জামিনের বিরোধিতা করে বলি, মামলাটি তদন্তাধীন। আসামি জামিন পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন মঞ্জুর করেন।’
ডিবি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিল। এ সময় আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করে। এতে আন্দোলনকারী মো. আশরাফুল ফাহিমের বাঁ চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। তিনি গত বছরের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা করেন।
মামলায় আশরাফুল অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা ও নির্দেশে পুলিশ সদস্য ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ৩ নম্বর আসামি।
শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বাকি তিনটি মামলা তদন্তাধীন বলে ডিবি জানিয়েছে।
সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তির পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদের প্রতিনিধিত্ব এবং বহিষ্কৃত জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক ছিল সোমবারের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একই সময়ে সরকার সংসদে বিরোধীদের আলোচনার সুযোগের কথা বললেও বিরোধীদল জামায়াত রাজপথ ও সংসদ—দুই জায়গাতেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
একাধিক বিল পাসকে কেন্দ্র করে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ ও ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ নিয়ে বিরোধীদলের আপত্তির মধ্যেই সংসদে এসব বিল পাস হয়। বিলগুলোর বিরোধিতা করে বক্তব্য দেওয়ার পর অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। পরে মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন ত্যাগ করেন তারা। বিরোধীদলের নেতারা এ ঘটনাকে সংসদের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।