গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান 'হ্যাঁ' ভোট নাকি 'না' ভোট দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করতে আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংস্কারের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের গণসংযোগ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে সাত দিনব্যাপী এই কর্মসূচি শুরু হয়।
গণভোট বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে তারেক রহমান “হ্যাঁ” ভোট দিতে বলেছিলেন। এর মানে তিনি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। এই হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অর্থ জুলাই সনদের সব সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ বলা।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আপনি কি আপনার দেওয়া ভোটের ফলাফলকে অস্বীকার করবেন? তাহলে আপনি দাঁড়িয়ে বলেন, “না, আমি ১২ ফেব্রুয়ারিতে হ্যাঁ ভোট দিইনি।” তা-ই আপনি বলেন।
জুলাই আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের মন্ত্রীরাও নির্বাচনের সময় হ্যাঁ ভোট দিতে বলেছিলেন। পাঁচ কোটি ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) খারিজ করে দিয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, এখন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীরা গণভোট, গণভোট অধ্যাদেশ, জুলাই আদেশকে অবৈধ বলছেন। গণভোট বাতিলের অর্থ আপনার ভোটকে বাতিল করা। তাহলে আপনাকে স্বীকার করতে হবে যে আপনি হ্যাঁ ভোট দেননি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, বিএনপির ভাষায় গণভোট অবৈধ। তেমনটি হলে নির্বাচনের আগে গণভোটে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন কেন? এখন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারা গণভোট মানতে চায় না। ১১ দল গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরবে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, বিএনপি ৫১ শতাংশের ম্যান্ডেট নিয়ে ৭০ শতাংশের ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করছে।
বিএনপিকে ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করার পরামর্শ দিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যে জনগণ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ রুখে দিয়েছিল, তারা জুলাই অভ্যুত্থান বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।