রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পূর্বের ঐকমত্য থেকে বর্তমান সরকার সরে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ ৩৩টি রাজনৈতিক দল ফ্যাসিস্ট আমলের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সংস্কারের লক্ষ্যে ৮৪টি প্রস্তাবে একমত হয়েছিল, যার মধ্যে ৪৭টি ছিল সাংবিধানিক পরিবর্তন সংক্রান্ত।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিতকৃত জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সংস্কার প্রস্তাবগুলো থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলেই প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই ৯ এপ্রিলের নির্বাচনে ভোটারদের সচেতন হয়ে সঠিক প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ন্যায়বিচার ও ইনসাফের প্রতীক—এ প্রতীকের পক্ষে গণসমর্থন দিন।”
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তন চায় এবং দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অবিচারের বিরুদ্ধে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া ভিপি, সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া মো. আব্দুল বাতেন এবং দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মাসুদুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। এতে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ঘোষিত তফসিল ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনের ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।