মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তরাজ্যের কোনো আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মেইলে কোনো চিঠি আসেনি বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সে ধরনের কোনো চিঠি এলে ওই আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং যাঁদের পক্ষে আসবে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ দপ্তরে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।
‘কিংসলে নেপলি’ নামের যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ বেরিয়েছে। কিংসলে নেপলি নামে একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। সেই ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এর অবস্থান যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে। এটি ৮০ বছরের বেশি সময় ধরে আইনি সেবা দিয়ে আসছে।
আজ সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে গতকাল বুধবার তিনি জানতে পারেন, কিংসলে নেপলি নামের একটি ‘ল ফার্ম (আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান)’ শেখ হাসিনার পক্ষে একটি চিঠি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) মেইলে এ রকম কোনো চিঠি আসেনি। কিছু সাংবাদিক কীভাবে পেয়েছেন, তা তিনি জানেন না। একজন সাংবাদিক তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে সেই চিঠির একটি কপি দিয়েছেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, “সেই চিঠির কপি থেকে যেটুকু পড়েছেন, তার ওপরে অ্যাড্রেস আছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নিচে লেখা আছে ‘ডিয়ার আইসিটি’। চিঠির প্রথম প্যারাগ্রাফে লেখা আছে, উই অ্যাক্ট অন বিহাফ অব শেখ হাসিনা (শেখ হাসিনার পক্ষে)। এটুকু পড়লেই বোঝা যায়, কত মানের ইম্যাচিউরড (অপরিপক্ব) একটা লেটার যে কীভাবে কাকে অ্যাড্রেস করতে হয়, তা তাঁরা জানেন না।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের কোনো বিচারককে যদি অ্যাড্রেস করতে হয়, তাহলে কি “ডিয়ার আইসিটি” বলবে নাকি “অনারেবল জজ”? যদি ব্রিটিশ ল ফার্মের পক্ষ থেকে হয়, তাহলে তাদের এটুকু জানার কথা। এটা তো মনে হচ্ছে একেবারে একটা ভুয়া চিঠি। কিংবা কোনো ভুয়া ল ফার্ম দেশ থেকে হচ্ছে কি না; কেরানীগঞ্জ–জিঞ্জিরা থেকে হচ্ছে কি না, তা বলা যাচ্ছে না।’
এ রকম উড়োচিঠি আসার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের কোনো কার্যক্রম বিতর্কিত হবে না বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সম্পর্কে চিঠির মধ্যে যা বলেছে, তা কোনো ল ফার্মের আইনগতভাবে বলার অধিকার নেই। কারণ, শেখ হাসিনা পলাতক।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অফিশিয়ালি যদি আমাদের কাছে এই চিঠি আসে, তাহলে আমরা মনে করি যে এই চিঠির যা ভাষা, এই চিঠির যা বক্তব্য, এটা একেবারেই আদালত অবমাননার শামিল। বরং আমরা এ–জাতীয় ফার্ম, যদি অফিশিয়ালি আমাদের কাছে এই চিঠি আসে, তাহলে ওই সব ফার্মের বিরুদ্ধে, যাঁদের পক্ষে এ রকম চিঠি আসবে, তাঁদেরসহ আমরা কনটেম্পট প্রসিডিংয়ের (আদালত অবমাননার) জন্য ব্যবস্থা নেব; আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় শেখ হাসিনাকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে (অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এ মামলায়।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।