আওয়ামী লীগের অপরাধী নেতাকর্মীদের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরীহ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। তিনি বলেছেন, খুনিদের শাস্তি হোক, কিন্তু যারা নিরীহ, তাদের ক্ষমা করে দেওয়াই দেশের জন্য কল্যাণকর। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে নির্বিচারে ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা এখানে অনেক লোক আছেন। কেউ বিএনপি, কেউ জামায়াত, কেউ এনসিপি, এমনকি আওয়ামী লীগও আছে। যদিও কেউ বলে আওয়ামী লীগের একটাও নাই, এটা তো মিথ্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুনির শাস্তি হোক। বাকি নিরীহ যারা, ওদের তো ক্ষমা করে দেওয়াই দেশের জন্য কল্যাণ।’

ইশরাকের উদ্দেশ্য মহৎ, পদ্ধতি খারাপ

বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গও টানেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ইশরাকের অবস্থান সঠিক হলেও পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতি ঠিক ছিল না।

আব্বাসী বলেন, ‘ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অবশ্যই এটা ঠিক। তার পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতিটা খারাপ ছিল, উদ্দেশ্য মহৎ ছিল।’

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগের কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, বিএনপি ও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অভিযানে কোনো ভুল করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিকদের সমালোচনা

মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ধরন নিয়েও সাংবাদিকদের সমালোচনা করেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। তাঁর অভিযোগ, অভিযানের ইতিবাচক দিক তুলে না ধরে সাংবাদিকেরা ইশরাকের পিস্তল হাতে দৌড়ানোর বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের ইতিবাচক দিক প্রচার না করে পিস্তল হাতে দৌড়ানোর বিষয়টি সামনে এনেছেন।’

সাংবাদিকদের একাংশকে ‘হলুদ সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। আব্বাসীর দাবি, সাংবাদিকেরা ইতিবাচক সংবাদ প্রচার করলে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত।

দেশে মাদকের বিস্তার মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব্যের অন্য অংশে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী।