মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া ইশরাক হোসেনের কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তবে প্রকাশ্যে একজন জনপ্রতিনিধি ও প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র বহন কিংবা কাউকে অস্ত্র তাক করার বিষয়টি অন্যরা অপরাধের দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ইশরাক হয়তো ভালো নিয়তে কাজটি করেছেন, কিন্তু খারাপ উদ্দেশ্যে অস্ত্র ব্যবহারের মানুষের অভাব নেই।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সাবেক সাথি-সদস্য সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। এর আগে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘তাঁর (ইশরাক) কাজকে কেউ নেগেটিভ (নেতিবাচক) বলার সুযোগ নেই। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি, একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে যদি প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করেন বা কাউকে এটা দিয়ে তাক করেন, তাহলে তিনি হয়তো ভালো নিয়তে করেছেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। এরা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে (অস্ত্র প্রদর্শন) ব্যবহার করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি যদি আপনি সিভিল অ্যাটিচিউড থেকে নেন, তাহলে আপত্তির জায়গাটি শুধু এটুকুই। তাঁর কাজের ব্যাপারে আপত্তি করার কিছু নেই।’

‘হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো’

ইশরাক হোসেনের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, এটি বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর চাওয়ায় ইশরাক পদত্যাগ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেখেন, এটা তাদের (বিএনপির) একটা দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তারপরে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এটা বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী এটা চেয়েছেন, এই জন্য সে পদত্যাগ করেছে।’

মাদককে সমাজের জন্য বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘মাদক তো সমাজকে শেষ করে ফেলতেছে। তার যেটা করা দরকার ছিল, সে বলেছে যে সেখানে পুলিশ ছিল, ফোর্স ছিল। তাঁর হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো। এতটুকু।’

এ সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা তো আমার পক্ষ থেকে ইশরাকই বলে দিছে।’

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে ইশরাক

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ইশরাক। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অভিযানে কোনো ভুল করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

ইশরাকের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র বহনের সম্ভাব্য প্রভাবকে আলাদা করে দেখেছেন জামায়াত আমির। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের ভূমিকা নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন জনপ্রতিনিধির অস্ত্র প্রদর্শন অন্যদের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

‘অন্যায়-অবিচারের হিসাব দিতে হবে’

এর আগে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেননি। জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেওয়ার জবাবদিহি করতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ ও মুহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক চাকসু সহসভাপতি জসিম উদ্দিন সরকার এবং ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।