জামায়াতে ইসলামী একাত্তরে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারলে আওয়ামী লীগ কেন রাজনীতি করতে পারবে না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। জামায়াতের ‘আস্ফালনের’ কারণে আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল তিনটার দিকে বাংলা একাডেমিতে ছাত্র অধিকার পরিষদ প্রকাশিত ‘মুক্তি’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগকে কী দিয়ে ঠেকানো হবে, সেই প্রশ্ন সামনে আসছে। তাঁর ভাষায়, ‘জামায়াতের যেই আস্ফালন, এই আস্ফালনের কারণে আওয়ামী লীগকে এ দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা হবে। কারণ আওয়ামী লীগকে কী দিয়ে ঠেকাবেন আপনি?’
নুরুল হক নুর আরও বলেন, ‘জামায়াত যদি একাত্তরে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও লুটপাট করে মানবতাবিরোধী অপরাধের চরম অপকর্ম করেও বাংলাদেশের বিরোধী দল হতে পারে, রাজনীতি করতে পারে, তাহলে আওয়ামী লীগ কেন পারবে না?’ তিনি বলেন, যুক্তি-তর্কের হিসাব করলে এমন প্রশ্ন সামনে আসে।
এনসিপিকে নিয়ে কড়া সমালোচনা
আলোচনা সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, নেপালের আন্দোলনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তরুণ-তরুণীরা ছিলেন। আর বাংলাদেশের আন্দোলনে যুক্ত কিছু মানুষের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি তাঁদের ‘ছাগল চোর’, ‘ল্যাপটপ চোর’ এবং ‘রাজনৈতিক টাউট’ বলে অভিহিত করেন।
এনসিপিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকজন জড়ো হয়েছেন দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার ভাগ পাওয়ার আশায় তাঁরা দলটিতে যুক্ত হয়েছেন। এ সময় দলটির ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘আজকে লিখে নেন এই এনসিপির পরিণতি হবে ফ্রিডম পার্টির মতো।’ ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যাঁরা নিজেদের নায়ক মনে করেছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে খলনায়কে পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির নেতাদের ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁরা যে কাজ করেছেন, তার জন্য দেশে থাকলে কারাগারে যেতে হতে পারে। আবার দেশ ছেড়ে পালানোর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে কোন নির্দিষ্ট অভিযোগ বা ঘটনার ভিত্তিতে তিনি এসব কথা বলেছেন, তা বক্তব্যে স্পষ্ট করেননি।
ইনকিলাব মঞ্চকে নিয়েও অভিযোগ
ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়েও অভিযোগ করেন নুরুল হক নুর। তাঁর দাবি, সংগঠনটিতে থাকা ব্যক্তিদের বড় অংশ জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি বলেন, ‘এখন যারা ইনকিলাব মঞ্চে আছে, এগুলো শিবিরের প্রক্সি, সবগুলো শিবির।’
জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে ওঠার সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, এসব সংগঠনের ৮০ শতাংশই জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে যুক্ত। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে বক্তব্যে কোনো পরিসংখ্যান বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে নুরুল হক নুর একাত্তরে দলটির ভূমিকার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ও ইতিহাসের দায় থাকা সত্ত্বেও জামায়াত যদি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারে, তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তাঁর এই বক্তব্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা এবং জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে। তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের বর্তমান আইনি অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের অবস্থান আলাদাভাবে বিবেচ্য।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে নুরুল হক নুর আওয়ামী লীগ, জামায়াত, এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চকে নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এসব মন্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দল ও সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।







