অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত হওয়ার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হচ্ছে কি না, তা যথাযথভাবে তদারকি করে না সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রের উদাসীনতায় অগ্নিকাণ্ডে মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে। ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকির দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যথাযথ নজরদারির অভাব রয়েছে। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাপণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। ফায়ার ফাইটারদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
সাদিক কায়েম বলেন, প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং জনবলসংকটের কারণে ফায়ার ফাইটারদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেক ফায়ার ফাইটার প্রাণ হারিয়েছেন, আবার অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ফায়ার ফাইটারদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পেলে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, আগামীতে নগরবাসী তাঁদের দায়িত্ব দিলে পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে ঢাকা শহরকে গড়ে তোলা হবে। অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মী আহত হন বলে জানান সাদিক কায়েম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও চকবাজার-বংশাল জোনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যক্ষ এস এম আহসান উল্লাহ, চকবাজার দক্ষিণ থানার আমির আনিছুর রহমান, চকবাজার পূর্ব থানার আমির রফিকুল ইসলাম সিকদারসহ চকবাজার থানা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ী নেতারা।






